লোডশেডিং: আদানি চালু হয়ে বন্ধ হলো রামপাল

ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুতের চাহিদা এখন তুঙ্গে। তবে চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ তো পাওয়াই যাচ্ছে না, বরং বেড়েছে লোডশেডিং। বিদ্যুতের এই ঘাটতির পেছনে এখন বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। একেক সময় একেক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে উৎপাদনে বড় ঘাটতি সৃষ্টি করছে।

এদিকে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আবারও সারা দেশে ঘণ্টায় প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গ্রাম কিংবা শহরে দৈনিক চার থেকে ১২ ঘণ্টা করে লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে উৎপাদন ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে। আদানির দ্বিতীয় ইউনিটের একটি ভালভ বিকল হয়ে পড়ায় কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিতে হয়েছিল বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:  লোডশেডিং হলেও গ্রামে নয়, প্রথমে ঢাকায় : ফাওজুল কবির

এর আগে এক মাসের বেশি সময় ধরে স্বল্প সক্ষমতায় অর্থাৎ দিনের বেলা ৭০০ মেগাওয়াট ও রাতের বেলায় এক হাজার মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল আদানি। যদিও দেশে তখন সরবরাহের অভাবে ব্যাপক লোডশেডিং ছিল। বন্যায় কয়লার মজুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে উৎপাদন কমিয়ে রাখা হয়েছে বলে তখন আদানির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আজ রোববার আদানি জানায়, ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে আদানির ইউনিট-২ মেরামত সম্পন্ন করে পুনরায় চালু করা গেছে। এতে সন্ধ্যা ৬টায় প্রথম ইউনিট থেকে ৭৩০ ও দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৭২২ মেগাওয়াট হারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে। দুই ইউনিট যুক্ত হয়ে ১ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ দিতে শুরু করেছে আদানি।

আরও পড়ুন:  ঢাকায়ও লোডশেডিং করা হবে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

এদিকে আদানি চালু হওয়ার পর বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ মালিকানায় নির্মিত রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আদানি থেকে ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসা শুরু করলেও রামপাল থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসা বন্ধ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম বলেন, বিভ্রাটের আগে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। একটি বিয়ারিংয়ে ভাইব্রেশন বেড়ে যাওয়ার কারণে ইউনিটটি বন্ধ করা হয়। এ ছাড়া কয়লাভিত্তিক অন্য কেন্দ্রগুলো আগের মতোই চলছে বলে জানান তিনি।

এদিকে গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গতকাল শনিবার রাতে বিদ্যুতের ঘাটতি তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। এ দিন রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ঘণ্টাপ্রতি ১৭ হাজার মেগাওয়াট; কিন্তু সরবরাহ পাওয়া গেছে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মতো।

আরও পড়ুন:  গ্রামে নয়, গুলশান-বনানীতে লোডশেডিং দিন: প্রধানমন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 2 =