ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারী রাশেদা বেগম (২৯)। গতকাল ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর গত শনিবার রাশেদাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকেরা জানান, গুরুতর ডেঙ্গুর কারণে হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। রাশেদার স্বামী আমীরুল হোসাইন চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলী আলহাজ মোস্তফা হাকিম ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান—সাড়ে চার বছর বয়সী আতেফ আমীরুল এবং মাত্র এক মাস বয়সী আদিয়ান আমীরুল।
গত ৫ আগস্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন রাশেদা। আমীরুল জানান, অস্ত্রোপচারের পর তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। এর আগে আমীরুল ও তাঁর মা-ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। চাকরির কারণে রাশেদা বেশির ভাগ সময় সন্দ্বীপে থাকতেন এবং ছুটিতে চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ কাট্টলি সধু চৌধুরী লেনের বাসায় আসতেন। ওই এলাকায় মশার উপদ্রব বেশি থাকায় সেখানেই তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করেন তাঁর স্বামী।
গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে রাশেদার মরদেহ নিয়ে সন্দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হন আমীরুল। বিকেল তিনটার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও প্রতিবেশীরা জড়ো হন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
তাঁর মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি শোক নেমে এসেছে দুই সন্তানকে ঘিরে; বিশেষ করে এক মাস বয়সী শিশুটিকে মায়ের স্নেহ ছাড়া বেড়ে উঠতে হবে—এ বিষয়টি স্বজনদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। রাশেদা ২০২৪ সালে স্বাস্থ্য সহকারী পদে যোগ দেন।
তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, “রাশেদা বেগমের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। একজন সহকর্মীকে এভাবে হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”







