বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক এবং বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পদত্যাগ করেছেন। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স সায়মার পদত্যাগপত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বুধবার ডব্লিউএইচও এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতারণা সংক্রান্ত তদন্তের জেরে তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।  

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে এক রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনের পর তার রাজনৈতিক সহযোগীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ওপরও ক্ষমতার পালাবদলের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হাসিনার অনেক রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশে দুর্নীতি ও ফৌজদারি মামলা চলছে এবং অনেকে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে রয়েছেন।

২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মার্চ মাসে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে ওই বছরের জুলাইয়ে ডব্লিউএইচও তাকে প্রথম প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় এবং শেষের দিকে বেতনবিহীন ছুটিতে পাঠায়।

আরও পড়ুন:  পদ্মা সেতুতে হাঁটলেন ভুটানের রাজা

রয়টার্সের হাতে আসা তিন জুলাইয়ের সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের একটি চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ডব্লিউএইচও তার বিরুদ্ধে দুটি প্রধান অভিযোগ আনে:  ভ্রমণ সংক্রান্ত অনিয়ম: চীন সফরের অর্থায়নে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ।  যোগ্যতার বিভ্রান্তি: শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুল তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ।  পরবর্তীতে সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বেআইনিভাবে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ তুলে ধরে। তবে সায়মা ওয়াজেদ এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তার দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি পান এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য হিসেবে আইনিভাবেই তিনি এর অধিকার অর্জন করেছিলেন।

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেডরস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ লেখেন, আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই আমি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু যেহেতু আপনি আমাকে কার্যকারীভাবে কাজ করতে দিচ্ছেন না, তাই ডব্লিউএইচওতে আপনার নেতৃত্বের ওপর আমার সমস্ত আস্থা উঠে গেছে।

আরও পড়ুন:  আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও বিজয়ী হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রায় এক বছর ধরে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে থাকায় তার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা তাকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সংস্থাটির গোপনীয়তার নীতি মেনে পূর্বেই জানানো হয়েছিলো যে তিনি ছুটিতে রয়েছেন। ডব্লিউএইচওর অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সংস্থাটি সায়মা ওয়াজেদকে অপসারণের প্রক্রিয়া আগেই শুরু করেছিল। সংস্থাটি আগামী ১২ অক্টোবর পদটির জন্য নতুন মনোনয়ন আবান করবে, ডিসেম্বরে আবেদন বাছাই করা হবে এবং ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 + 3 =