তিন দিনের সফরে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই সফরে তিনি ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে পুতিন পালাম বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার বাইরে এটিই পুতিনের প্রথম সশরীরে কোনও ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটায় রুশ প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দুই নেতার এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার জানান, রাশিয়া ও ভারত ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে। মস্কো এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের বাকি চালান সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সু-৫৭ যুদ্ধবিমান সরবরাহের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে।
পেসকভ আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা অত্যন্ত দৃঢ় রয়েছে এবং নতুন বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের ভারতের পরিকল্পনা নিয়ে মস্কো ও নয়াদিল্লি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবারের বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তা নিরসনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনসহ বিভিন্ন পক্ষ নতুন করে যুদ্ধের সমাধানের পথ খুঁজছে।
এর আগে গত সপ্তাহে বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের বৈঠক হয়েছিল। তখন মোদি ইউক্রেন যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান এবং পুতিনকে ‘শেষহীন যুদ্ধ’ থেকে ‘যুদ্ধের সমাপ্তির’ দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারত সফর করেছিলেন।







