গিটার জাদুকরের জন্মদিন আজ

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী, গিটারবাদক ও সুরকার আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন আজ। বেঁচে থাকলে ৬৪ বছরে পা দিতেন তিনি।

১৯৬২ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম শহরে জন্ম নিয়েছিলেন সংগীতের এই অমর শিল্পী।বেঁচে থাকলে নগরীর এবি কিচেন স্টুডিও হয়তো মুখর হয়ে উঠত প্রিয় মানুষদের আড্ডা আর স্মৃতিচারণায়। তবে শারীরিকভাবে না থাকলেও গান আর স্মৃতিতে আজও সমানভাবে বেঁচে আছেন আইয়ুব বাচ্চু।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু।

তাঁর বাবা ইশহাক চৌধুরী এবং মা নুরজাহান বেগম। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠলেও পরিবারের অন্য কারো সঙ্গে সংগীতের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না। ভাই-বোনদের মধ্যেও কেউ সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই গিটারের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয় তাঁর।
জানা যায়, জিমি হেনড্রিক্সকে দেখার পরই গিটারের প্রতি আইয়ুব বাচ্চুর আগ্রহ আরো গভীর হয়। ১৯৭৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সংগীতজীবনের শুরু। পরের বছর যোগ দেন ব্যান্ড ফিলিংসে। সেখানে তাঁর গাওয়া প্রথম গান ‘হারানো বিকেলের গল্প’। এরপর তিনি যুক্ত হন সোলস ব্যান্ডে।

আরও পড়ুন:  সন্দ্বীপে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু
১৯৮০ সাল থেকে প্রায় এক দশক সোলসের সঙ্গে পথচলা তাঁর সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।সোলস ছাড়ার পর ১৯৯১ সালে আইয়ুব বাচ্চু নিজেই গড়ে তোলেন নতুন ব্যান্ড এলআরবি। শুরুতে এর পূর্ণ নাম ছিল লিটল রিভার ব্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ায় একই নামে আরেকটি ব্যান্ড থাকায় পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় লাভ রানস ব্লাইন্ড।

নব্বইয়ের দশকে বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রাখে এলআরবি। আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠ, গিটারবাদন ও সুরের স্বাতন্ত্র্য তাঁকে দ্রুতই আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মঞ্চ মাতিয়েছেন তিনি। তাঁর গিটারবাদনের অনন্য দক্ষতার কারণেই সংগীতপ্রেমীদের কাছে তিনি পরিচিতি পান ‘গিটার জাদুকর’ হিসেবে।

শুধু ব্যান্ড সংগীত নয়, চলচ্চিত্রের গানেও ছিল তাঁর শক্তিশালী উপস্থিতি। ১৯৯৯ সালে ‘লাল বাদশা’ ও ‘আম্মাজান’, ২০০০ সালে ‘গুন্ডা নাম্বার ওয়ান’, ২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ ও ‘রং নাম্বার’, ২০০৯ সালে ‘চাঁদের মতো বউ’, ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’, ২০১৩ সালে ‘টেলিভিশন’ এবং ২০১৪ সালে ‘এক কাপ চা’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ‘আম্মাজান’ গানটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় গান হিসেবে আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে আছে।

আরও পড়ুন:  খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি

১৯৮৬ সালে ‘রক্তগোলাপ’ দিয়ে একক অ্যালবামের যাত্রা শুরু করেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর প্রকাশিত হয় ‘ময়না’ (১৯৮৮), ‘কষ্ট’ (১৯৯৫), ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কী!’ (২০০২), ‘দুটি মন’ (২০০২), ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘প্রেম প্রেমের মতো’ (২০০৩), ‘পথের গান’ (২০০৪), ‘ভাটির টানে মাটির গানে’ (২০০৬), ‘জীবন’ (২০০৬), ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’ (ইন্সট্রুমেন্টাল, ২০০৭), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯) এবং ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)।

অন্যদিকে এলআরবির প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এর পর একে একে আসে ‘ব্যান্ডের সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারী মন’, ‘স্বপ্ন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০০), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নেই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮) ও ‘যুদ্ধ’ (২০১২)।

আরও পড়ুন:  বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য খরচ দ্বিগুণ করলো কানাডা

এ ছাড়া বিভিন্ন মিশ্র অ্যালবামেও কাজ করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। নব্বইয়ের দশকে এলআরবি ও ফিলিংস যৌথভাবে ‘ক্যাপসুল’ ও ‘স্ক্রু ড্রাইভার’ নামে দুটি শ্রোতাপ্রিয় অ্যালবাম উপহার দেয়।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য গান, সুর ও গিটারবাদনের মাধ্যমে আইয়ুব বাচ্চু তৈরি করে গেছেন নিজস্ব এক জগৎ। তাঁর কণ্ঠে যেমন ছিল আবেগ, তেমনি গিটারে ছিল বিদ্রোহ, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − 11 =