বাথরুমে কেন স্ট্রোক হয়, কারণ ও প্রতিরোধের উপায় কী?

বাথরুম সাধারণত নিজেকে সতেজতার জন্য ব্যবহার করা হলেও দুঃখজনকভাবে এটি অনেকের কাছেই এখন আতঙ্কের নাম। মাঝে মধ্যেই আশপাশে শোনা যায়, বাথরুমে স্ট্রোকের ঘটনা ঘটছে।

অপ্রত্যাশিত এই প্রবণতাটি নিয়ে বাসা-বাড়ির বয়স্করা সব সময় উদ্বিগ্ন থাকেন।স্ট্রোক, যাকে চিকিৎসা ভাষায় ‘ব্রেইন অ্যাটাক’ বলা হয়। এটি ঠিক তখনই ঘটে, যখন মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বাধাগ্রস্ত হয় এবং মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেনবঞ্চিত হয়। এ কারণ স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া, পেশি নিয়ন্ত্রণে জটিলতা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে স্থায়ী সমস্যা হতে পারে।

স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রোক যেকোনো সময় যে কারো হতে পারে। কিন্তু বাথরুমে এটি কেন ঘন ঘন হয়, তা বুঝতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। মেড-ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী এ ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক।

  • বাথরুমে স্ট্রোক হওয়ার কারণসমূহ

টয়লেটে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া : মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া প্রায়ই অস্বাভাবিক ভঙ্গির কারণে হয়।

যা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বা জ্ঞান হারিয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে।গোসলের ভুল নিয়ম : মাথায় ও চুলে আগে পানি ঢেলে তারপর গোসল শুরু করলে শরীরের তাপমাত্রায় দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। এই হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং ধমনি বা সূক্ষ্ম রক্তনালি ক্যাপিলারি ফেটে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়।

আরও পড়ুন:  শরীরের রক্ত পরিষ্কার রাখবে নিম পাতা!

পানির তাপমাত্রা : শীতে সচরাচর ব্যবহৃত ঠান্ডা পানি ধমনিগুলোকে সংকুচিত করে থাকে।

যা হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রক্তপ্রবাহকে ব্যাহত করে থাকে।বাথরুমে পিছলে পড়ে যাওয়া : বাথরুমে পিছলে পড়ে যাওয়া খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। এ কারণে মাথায় আঘাত লাগতে পারে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • বাথরুমের স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়

মলত্যাগের সঠিক ভঙ্গি : কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমে যেন চাপ না পড়ে, এ জন্য মলত্যাগের সময় স্বাভাবিক বসার ভঙ্গি বজায় রাখতে হবে।

সঠিক নিয়মে গোসল : গোসল শুরুর সময় প্রথমে পায়ে পানি দেওয়া এবং ধীরে ধীরে মাথার দিকে পানি নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে তাপমাত্রাজনিত চাপের পরিবর্তন কমানো যায়।

পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ : ধমনির সংকোচন রোধে, বিশেষ করে শীতের সময় পানির তাপমাত্রা যেন সহনীয় ও আরামদায়ক থাকে, তা নিশ্চিত হতে হবে।

বাথরুমের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা : বাথরুমের দেয়ালে হাত দিয়ে ধরার জন্য হাতলজাতীয় কিছু বসাতে হবে। পিচ্ছিল জায়গা ঢেকে রাখার জন্য সাকশন কাপযুক্ত বাথ ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন এবং পিছলে পড়ে যাওয়া রোধে বাথ বেঞ্চ বা টুলও ব্যবহার করতে পারেন।

  • স্ট্রোকের লক্ষণসমূহ
আরও পড়ুন:  সংসদে ‘কাঁচা রাস্তা’ বলার ব্যাখ্যা দিলেন আলোচিত এমপি জেবা আমিন

মুখ বেঁকে যাওয়া : মুখের একপাশ ঝুলে পড়া বা অবশ অনুভূতি হওয়া। রোগীকে হাসতে বলতে হবে। হাসি যদি অসমান বা একদিকে বাঁকা দেখায়, তাহলে এট স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।

হাতে দুর্বলতা : এক হাত দুর্বল হয়ে পড়া বা নাড়ানো কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীকে উভয় হাত ওপরে তুলতে বলতে হবে, যদি একটি হাত নিচের দিকে থেকে যায় বা স্পষ্টত দুর্বল মনে হয়, তাহলে স্ট্রোকের ইঙ্গিত হতে পারে।

কথা জড়িয়ে যাওয়া : কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অস্পষ্টত হওয়া বা বুঝতে না পারাও স্ট্রোকের লক্ষণ। রোগীকে একটি সহজ বাক্য বারবার বলতে বলা হলে যদি তা বলতে কষ্ট হয় বা অস্পষ্ট শব্দ বলে, তাহলে স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।

তীব্র মাথাব্যথা : হঠাৎ যদি তীব্র মাথাব্যথা হয়, যাকে জীবনের ভয়াবহ বা মারাত্মক বলে বর্ণনাও করা হয়, তাহলে হেমোরেজিক স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে স্ট্রোক হওয়ার মতো লক্ষণ হতে পারে।

আরও পড়ুন:  ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহকদের জন্য সুখবর

দিকবিদিক জ্ঞান হারানো : রোগী কোনো কারণ ছাড়াই বিভ্রান্তি হতে পারেন বা দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারেন। কোনো কিছু বুঞতে বা মানতে সমস্যা হতে পারে বা চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে মাঝে মধ্যে অবচেতনও হতে পারেন।

হাঁটতে বা ভারসাম্যের সমস্যা : স্ট্রোক হলে শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয় বজায় রাখার ওপর প্রভাব পড়ে। এ ক্ষেত্রে রোগীর হাঁটতে সমস্যা হতে পারে, আবার হোঁচট খেতে পারেন বা মাথা ঘোরা ও ভারসাম্যহীনতাও অনুভব করতে পারেন।

এ ছাড়া দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং খাবার গিলতে কষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 + 19 =