বাংলাদেশসহ ১৩ দেশ নিয়ে সৌদির নতুন জোট

লোহিত সাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালী এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা প্রতিহত করার লক্ষ্যে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের কৌশলগত এই নৌপথগুলোতে মুক্ত জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিয়ে এই জোটের সূচনা করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই জোটে প্রায় ৫০টি দেশকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে রিয়াদ। রুশ বার্তা সংস্থা তাসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মিসর, সুদান, জিবুতি ও সোমালিয়ার পাশাপাশি তুরস্ক, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বহু দেশকে এতে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানানো হয়। চূড়ান্তভাবে তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস জোটের সনদে স্বাক্ষর করেছে। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তার একই ধরনের ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এ জোটে যোগ দেয়নি।

আরও পড়ুন:  সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গালফ নিউজ ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোট গঠনের প্রাথমিক বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। উল্লেখ্য, লোহিত সাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যাসপিডেস’ নামের একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন আগেই সক্রিয় থাকায় নতুন এই জোট ঠিক কীভাবে তাদের সাথে সমন্বয় করবে তা এখনো পর্যালোচনাধীন।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শুধু হুথি বিদ্রোহী প্রতিরোধই নয়, লোহিত সাগরে জলদস্যুতা, অস্ত্র ও পণ্য চোরাচালান দমনে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা হবে। জোটটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করা এর উদ্দেশ্য নয়। যৌথ মহড়া, গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান, অভিযানগত পরিকল্পনা ও সমন্বিত নৌ-অভিযানের মাধ্যমে এই জোট কার্যক্রম পরিচালনা করবে। জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবে অবস্থিত হবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের যুক্ত হওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ বিমান ধ্বংস

আল মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, জোটটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এ জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত হলে ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০-১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা বাব এল-মান্দেব প্রণালী সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল। উদ্ভূত সংকটের মুখে আন্তর্জাতিক বাজার ও নিজেদের তেল সরবরাহ সচল রাখতে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু টার্মিনাল ব্যবহারের পাশাপাশি এই বহুজাতিক নৌ-প্রতিরক্ষা বলয় গঠনের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেয় রিয়াদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *