সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এদিন ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর অভাবনীয় দাপটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য বেড়েছে। এর ফলে দুই বাজারের প্রধান মূল্যসূচকের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে এবং ডিএসইতে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ এক হাজার ২০০ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
এদিন লেনদেনের শুরু থেকেই বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা পরিলক্ষিত হয় এবং দিন গড়ানোর সাথে সাথে সূচকের ঊর্ধ্বগতি আরও বেগবান হয়। বিশেষ করে প্রথম দুই ঘণ্টার লেনদেন শেষে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারগুলোর ব্যাপক চাহিদা দেখা দেওয়ায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়তে থাকে। দিন শেষে ডিএসইতে মোট ২৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৬০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৯টির দর। ব্যাংকিং খাতের ২১টি কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ার বিপরীতে মাত্র দুটির কমেছে এবং আর্থিক খাতের ১৯টি প্রতিষ্ঠানেরই শেয়ার দর বেড়েছে। এদিন কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দর কমেনি।
লভ্যাংশের ভিত্তিতে কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৪৪টির শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৩০টির দর কমেছে। মাঝারি মানের ৫৭টি কোম্পানির দাম বাড়ার পাশাপাশি লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজারের এই সার্বিক ঊর্ধ্বমুখিতার কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৬০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক এবং শরিয়াহ সূচকেও এদিন বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
সূচকের পাশাপাশি মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেনের গতিও ছিল বেশ চাঙ্গা। দিন শেষে মোট এক হাজার ২৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩৮৮ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনের এই শীর্ষ তালিকায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সায়হাম কটন এবং আইটি কনসালটেন্টস। এছাড়া শীর্ষ দশের তালিকায় শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি ব্যাংক, মালেক স্পিনিং ও ফারইস্ট নিটিংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও জায়গা করে নিয়েছে।
দেশের অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে এদিন ১৩৪ পয়েন্ট বেড়েছে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই। বাজারটিতে অংশগ্রহণকারী ১৭৪টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে এবং কমেছে ৫২টির। সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৬৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।







