শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন পর্ষদ নিয়োগের পর প্রথম কার্যদিবসেই দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার পাশাপাশি প্রায় এক বছর ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। মূলত নতুন নেতৃত্বের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই বাজারের এই ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এদিন লেনদেনের শুরু থেকেই ডিএসইতে অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দাম বাড়তে থাকে। দিনশেষে ১৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৬০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের দর। এর ফলে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর অন্য দুটি সূচক ডিএসইএস ও ডিএস-৩০ সূচকও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই উত্থানের মাধ্যমে ঢাকার শেয়ারবাজারে টানা ১০ কার্যদিবস ধরে সূচকের উর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকল।
লেনদেনের অংকের দিক থেকেও এদিন বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে ডিএসই। রোববার বাজারটিতে মোট ১ হাজার ৫২৯ কোটি ৫ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। অর্থাৎ প্রায় ১ বছর ১০ মাসের ব্যবধানে এটিই ডিএসইর সর্বোচ্চ দৈনিক লেনদেন। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরণের চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেছে। এক্সচেঞ্জটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১৩১ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৩৯৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে এবং সেখানে ৫৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সাথে নাহিদ মাহতাব, তানভীর হাবিব রহমান এবং নাফিজ-আল-তারিককে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব গঠন করে সরকার। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই পুনর্গঠন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ায় বাজারে ক্রয়াদেশের চাপ বেড়েছে, যার সুফল সূচক ও লেনদেনের অংকে প্রতিফলিত হচ্ছে। সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ধারবাহিক উত্থান সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে ওঠার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।







