যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধের জেরে এবার মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ সব সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যদি চাপ অব্যাহত রাখে, তাহলে আঞ্চলিক জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।
এর আগে ইরান নতুন করে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত সোমবার হুতিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে তারা বাব-এল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত। তাঁর দাবি, এমনটি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে সোমবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ এনে দেশটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতিরা। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।
হুতিরা এর আগেও বাব-এল-মান্দেব প্রণালী ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির আশপাশ এবং ইরানের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় টানা সাত ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে।
এ ছাড়া বাহিনীটির দাবি, হরমুজ প্রণালী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কয়েকটি স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স







