জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করল ইকুয়েডর

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ইকুয়েডর। অধিকাংশের ধারণা ছিল, এখানেই শেষ হবে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা। কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে অসাধারণ লড়াইয়ে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। চার পয়েন্ট নিয়ে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলের একটি হিসেবে নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের টিকিট। ২০০৬ সালের পর আবারও নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল লাতিন দেশটি।

নিউজার্সির স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় হলুদ জার্সিধারীদের বাঁধভাঙা উল্লাস। ডাগআউট থেকে কোচিং স্টাফরা দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করেন, ফুটবলাররা আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। গ্যালারিজুড়ে হাজারো ইকুয়েডর সমর্থকের উচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়। দৃশ্যটা যেন বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দেরই প্রতিচ্ছবি।

অন্যদিকে এই হারেও জার্মানির কোনো ক্ষতি হয়নি। আগের দুই ম্যাচে জয় এবং মুখোমুখি লড়াইয়ের ব্যবধানে তারা আগেই গ্রুপসেরা হিসেবে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছিল। তবে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে এমন হার জার্মানদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে রইল।

তবে শুরুতেই পিছিয়ে পড়েও একটুও ভেঙে পড়েনি সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের দল। নবম মিনিটে মিডফিল্ডে বল কেড়ে নিয়ে পেদ্রো ভিতে পাস বাড়ান নিলসন আঙ্গুলোর দিকে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। বিশ্বকাপে এটি ছিল ইকুয়েডরের প্রথম গোল।

আরও পড়ুন:  অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়টি বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে জটিল

সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে তুলে নেয় ইকুয়েডর। গতি, ছন্দ ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে তারা বারবার জার্মান রক্ষণকে চাপে ফেলে। অন্যদিকে গোল হজমের পর জার্মানিকে অনেকটা সময় রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানি একটি পেনাল্টি পায়। কাই হাভার্টজকে ডি-বক্সে ফাউল করা হয়েছে বলে প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতেই লিরয় সানে প্রতিপক্ষকে ফাউল করেছিলেন। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

এরপর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ইকুয়েডর। একের পর এক আক্রমণে তারা জার্মান রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। এননার ভ্যালেন্সিয়া ও মোইসেস কাইসেদো কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি।

আরও পড়ুন:  মেট্রোরেলের এমআরটি কার্ডধারীর সুখবর

অবশেষে ৭৮তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। পেদ্রো ভিতের নেওয়া কর্নার থেকে জন রদ্রিগেসের হেড ফ্লিক পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে আলতো স্পর্শে পরাস্ত করেন গঞ্জালো প্লাতা। তার সেই শীতল মাথার ফিনিশিংয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইকুয়েডর। স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ৫৫ হাজার দর্শকের বড় একটি অংশ তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে।

বাকি সময়ে জার্মান কোচ একের পর এক পরিবর্তন এনে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেন। শেষ দিকে গোলরক্ষক নয়্যারকেও মাঝমাঠের কাছাকাছি উঠে এসে আক্রমণে অংশ নিতে দেখা যায়। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে তোরেস ও কাইসেদোকে নামিয়ে রক্ষণ আরও শক্ত করেন বেকাসেস। শেষ পর্যন্ত ইকুয়েডরের শৃঙ্খলিত রক্ষণ, দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ এবং কৌশলী ফুটবলের সামনে জার্মানির সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *