কী অভিযোগ রয়েছে বেনজিরের বিরুদ্ধে?

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশের (লাল নোটিশ) আওতায় তাঁকে দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় গত বছরগুলোতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এই প্রথম তাঁর অবস্থান ও গ্রেপ্তারের খবর সামনে এলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো আবেদনের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। এই নোটিশের কার্যকারিতা বজায় রেখেই দুবাইয়ের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এবং স্থানীয় সময় অনুযায়ী গতকাল রাতে তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন:  অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে: ড. ইউনূস

তবে বাংলাদেশ পুলিশ বা দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

কী অভিযোগ রয়েছে বেনজিরের বিরুদ্ধে?

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের (অর্থ পাচার) গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা: ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

অভিযোগপত্র বা চার্জশিট: দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেনজীর তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ গোপন করেছেন এবং তাঁর নামে অন্তত ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন:  দুই দিনের মধ্যে আবার আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আদালতের পরোয়ানা: অভিযোগপত্র গ্রহণের পর চলতি বছরের মার্চ মাসে ঢাকার একটি বিশেষ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর মে মাসে তাঁর অনুপস্থিতিতেই আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও পলাতক জীবন

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা: ২০২১ সালের ডিসেম্বরে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রেজারি বিভাগ র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

গত ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর বিশাল অবৈধ সম্পদের খতিয়ান গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান। ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোনো দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:  সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েন নেই, জানাল সেনাবাহিনী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen + 11 =