যুদ্ধ ছড়াল লোহিত সাগরে, আরেক প্রণালি বন্ধ ঘোষণা

একদিন আগেই যুদ্ধ সম্প্রসারণের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই। সোমবার ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় সে চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলের ওপর হামলায় ইরানের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইয়েমেন। হামলা ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে লোহিত সাগর ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে।

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধে এই দুটি অঞ্চল বাইরে ছিল। হরমুজ প্রণালির মতোই লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মাঝে অবস্থিত জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালি। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণকারী ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সোমবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে।

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইয়েমেনের এই গোষ্ঠী। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পুনরায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুতির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি সামুদ্রিক নৌযান চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করছি।’

আরও পড়ুন:  ইউক্রেনের ৩১ হাজার সেনা নিহত, জানালেন জেলেনস্কি

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন, গাজা, ইরান, লেবানন ও ইরাকে ‘জিহাদ ও প্রতিরোধ অক্ষের’ সাধারণ মানুষের ওপর যে অন্যায় অবরোধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটির মুখে তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

ইসরায়েলের গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল (টিওআই) জানিয়েছে, হুতিরা এরইমধ্যে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। তবে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়নি। আলজাজিরা তাদের প্রতিবেদনে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জাফা অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেছে।

টিওআই আরও জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি বসতির বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলছে, সোমবার সকালে ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। পশ্চিম তীরে যে আঘাতের ঘটনাটি ঘটেছে, তা মূলত প্রতিহত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আরও পড়ুন:  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অভিনন্দন জানালো টিআইবি

ইরানি গণমাধ্যম মেহর নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নতুন হামলা শুরু হলে গত শনিবারই যুদ্ধ পারস্য উপসাগরের বাইরে টেনে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন মহসেন রেজাই। তিনি বলেছিলেন, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানগুলো হরমুজ প্রণালি থেকে ভারত মহাসাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *