শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে যেভাবে টার্গেট করে হত্যা করা হয়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা দেখা দিয়েছে। এরই জেরে বুধবার (৬ মে) রাতে সদ্য বিজয়ী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডকে ‘ঠাণ্ডা মাথার খুন’ বলে অভিহিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এ বিষয়ে আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন বিজেপির এই নেতা। মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে ঘাতকরা এই হামলা চালানোর আগে দীর্ঘক্ষণ এলাকাটি ‘রেকি’ বা পর্যবেক্ষণ করেছিল বলেও উল্লেখ করেন শুভেন্দু।

এর আগে, বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এই হামলায় চন্দ্রনাথের সঙ্গে থাকা বুদ্ধদেব বেরাও আহত হয়েছেন। ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন:  জামিন পেলেন অভিনেত্রী শমী কায়সার

এ বিষয়ে তদন্তকারীদের ধারণা, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এদিকে হামলার সময় অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়, তবে সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানান, অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি ইতোমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তে দেখা গেছে, গাড়িটির নম্বর প্লেট বিকৃত করা ছিল। যে নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি মূলত শিলিগুড়ির একটি গাড়ির, যা অপরাধীরা ভুয়া হিসেবে ব্যবহার করেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু ব্যবহৃত খোল এবং তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার আগে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ এবং পালানোর পথ নির্ধারণ করে রেখেছিল হামলাকারীরা। রথের গাড়িকে একটি চার চাকার যান ও একটি মোটরসাইকেল অনুসরণ করছিল বলে জানান তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন:  এইচএসসির স্থগিত পরীক্ষার নতুন সূচি প্রকাশ

সূত্রগুলোর দাবি, চার চাকার গাড়িটি রাঠের রথের সামনে গিয়ে গতি কমাতে বাধ্য করে। এরপর মোটরসাইকেলে থাকা হামলাকারীরা কাছ থেকে গুলি চালায়। অন্তত ১০টি গুলি রথের শরীরে লাগে। গুলি তার বুক, পেট ও মাথায় আঘাত করে।

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে কোনও নম্বরপ্লেট ছিল না, যা পূর্বপরিকল্পিত হামলার সন্দেহ আরও জোরালো করেছে।

এদিকে হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত তাকে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। যেভাবে হামলাটি চালানো হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে ঘাতকরা আগে থেকেই সব পরিকল্পনা করে রেখেছিল। তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় তিনি সরাসরি কোনো সংগঠনের নাম নেননি।

শুভেন্দুর দাবি, যখন তিনি হাসপাতালে সতীর্থের খোঁজ নিচ্ছিলেন, সেই সময়েই বসিরহাটে এক কর্মীকে গুলি করা হয়েছে এবং বরাহনগর এলাকায় অন্য এক কর্মীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। রাজ্যের এই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন:  নিজস্ব অর্থায়নে নগরীর উন্নয়ন করবে ডিএসসিসি

এসময় নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রনাথকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরে দুটি গুলি লাগে। একটি গুলি তার বুক দিয়ে ঢুকে হৃদপিণ্ড ফুটো করে দেয় এবং অন্যটি পেটে লাগে। অন্যদিকে, চালক বুদ্ধদেবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *