বিয়ের আগ পর্যন্ত নতুন বউয়ের মুখ দেখেননি মাদানী

দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তার বিয়ের খবরটি নিজেই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন নেটিজেনরা।

এবার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন রফিকুল ইসলাম মাদানী।

তিনি দাবি করেন, তাকে নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় এই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে চাপে পড়ে তাকে মাদানী বিয়ে করেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন অনেকে। আবার কেউ কেউ দাবি করেছেন, এই নারীর সঙ্গে টিকটকে পরিচয় হয় তার। তবে এসব অভিযোগকে গুজব দাবি করে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ‘আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে বলছি, এই মেয়েকে বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত আমি জীবনে কোনো দিন দেখিনি।

আরও পড়ুন:  ৪ বিভাগে হতে পারে বৃষ্টি, আবারও বাড়তে পারে শীত
এমনকি তার সঙ্গে একবারের জন্য কথাও হয়নি। আর টিকটকে জীবনে কোনো দিন আমার আইডি ছিল না, সেটা এত বুঝিও না।’রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ‘আমি বিয়েটা করেছি আইএমভির মাধ্যমে। সেখানে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়ে করতে আগ্রহী ছেলে বা মেয়ে তাদের ফরম পূরণ করতে হয়।

আমার ফরম পূরণ করা হয়েছিল কয়েক মাস আগে। এরপর তারা কুফু অনুযায়ী মিলে গেলে ছেলে ও মেয়ের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে, উভয় পক্ষ রাজি হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়।’প্রথম স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় কেন দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলো—এমন প্রশ্ন করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সেই সময়ই আমার প্রথম স্ত্রীকে ফরম পূরণের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। অতএব আইএমভি শুধু বিবাহের মধ্যস্থতাকারী।

আমার জন্য উপযুক্ত মেয়ে পাওয়ার সময়টা আমার স্ত্রীর প্রেগন্যান্সির সময়ের সঙ্গে মিলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমিও দ্বিধান্বিত ছিলাম, সিদ্ধান্ত নিতেও কষ্ট হয়েছে।’তবে রফিকুল ইসলাম মাদানী তার পোস্টে দাবি করেন, তিনি তার স্ত্রীর সেবা-যত্ন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আড়াই বছরের সংসারে আমার স্ত্রী যদি ন্যূনতম একবারও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকে—পৃথিবীর কেউ যদি সেটা প্রমাণ করতে পারে, আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত।’

আরও পড়ুন:  বাংলাদেশি নাবিকদের উদ্ধারের চেষ্টা, দুপক্ষের গোলাগুলি

তিনি বলেন, ‘আমার এই হালাল ও বৈধ সিদ্ধান্তের কারণে আজ নিজের ভেতরেও এক ধরনের অপরাধবোধ জন্মেছে। তবে সেটার জন্য আমি একজন মানুষের কাছেই দায়ী—তিনি আমার প্রথম স্ত্রী। তার কাছে আমি কিভাবে আগের মতো হতে পারি, সেটাই আমার ইনসাফের মাধ্যমে প্রমাণ হবে, ইনশাআল্লাহ।’

তার বিয়ের পর মাওলানা মামুনুর রশীদ কাসেমী এবং তার প্রতিষ্ঠান আইএমভিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অনেকে। এ বিষয়ে মাদানী বলেন, ‘আইএমভি কী করছে? তারা শুধু এমন দুই পক্ষকে মিলিয়ে দিচ্ছে, যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী। তারা তো কাউকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে না।’

পোস্টের শেষে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ‘এ দেশের অনেক আলেমবিদ্বেষী মানুষ এপস্টেইন ফাইলস বা বড়লোক বড় নেতাদের স্ত্রী রেখে ৫-৭টা রক্ষিতা নিয়েও এত কথা বলেনি, যতটা আমার একাধিক বিয়ে নিয়ে বলছে। তাদের কাছে মনে হয়, এপস্টেইন ফাইলসের সেই ছোট ছোট শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বা বড় নেতাদের রক্ষিতা রাখার চেয়েও আমার দ্বিতীয় বিয়ে বড় অপরাধ।’

আরও পড়ুন:  পুষ্টি সমস্যার টেকসই সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে প্রযুক্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *