মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যেও এমিরেটসের রেকর্ড মুনাফা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এবং এর ফলে সৃষ্ট ফ্লাইট চলাচলের নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অভাবনীয় আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে এমিরেটস গ্রুপ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি রেকর্ড ৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কর-পূর্ব মুনাফা করার গৌরব অর্জন করেছে। এর মধ্যে এমিরেটস এয়ারলাইন এককভাবে ৬.২ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক এয়ারলাইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গ্রুপটির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমিরেটস গ্রুপের বার্ষিক রাজস্ব আয় এবার সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি গ্রুপটির নগদ সম্পদের পরিমাণ ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৬.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল মুনাফার একটি বড় অংশ উড্ডয়ন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ব্যয় করছে প্রতিষ্ঠানটি। গত এক বছরে নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়, আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ ও উন্নত প্রযুক্তির জন্য প্রায় ৪.৯ বিলিয়ন ডলার পুনঃবিনিয়োগ করা হয়েছে। অভাবনীয় এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এমিরেটস গ্রুপ তাদের মূল মালিকানা প্রতিষ্ঠান দুবাই ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনকে ১ বিলিয়ন ডলার লভ্যাংশ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:  নববর্ষের শোভাযাত্রার সঙ্গে নেই চারুকলার ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা

উড্ডয়ন ও পরিবহন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আলোচ্য অর্থবছরে এমিরেটস এয়ারলাইন মোট ৫ কোটি ৩২ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টি দেশের ১৫২টি গন্তব্যে তাদের বিশাল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত রয়েছে। এ ছাড়া এয়ারলাইনটির কার্গো শাখা ‘স্কাইকার্গো’ এই সময়ে ২৪ লাখ টন পণ্য পরিবহন করে ৪.৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ফলে বর্তমানে এমিরেটসের যাত্রীরা বিশ্বের ১ হাজার ৭০০টিরও বেশি শহরে যাতায়াতের সুবিধা পাচ্ছেন। মূলত কারিগরি দক্ষতা ও বৈশ্বিক চাহিদাকে কাজে লাগিয়েই এই প্রতিকূল সময়েও তারা ব্যবসা সচল রেখেছে।

এমিরেটস এয়ারলাইন ও গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ আহমেদ বিন সাইদ আল মাকতুম এই অসাধারণ ফলাফলের জন্য তাঁদের শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক মডেলকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। তিনি জানান, বছরের শেষ ভাগে ভূ-রাজনৈতিক চরম উত্তেজনা বাড়লেও এমিরেটসের নিরাপত্তা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ জনবল সংকটের মুখে অটল ছিল। বৈশ্বিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি বিশ্বের সেরা সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে তাঁরা অবিচল রয়েছেন। তাঁর মতে, এমিরেটসের এই জয়যাত্রা প্রমাণ করে যে সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ যেকোনো বৈশ্বিক সংকটে টিকে থাকার প্রধান হাতিয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *