ব্রিটিশ রাজাকে কোহিনূর হীরা ফেরত দেওয়ার আহ্বান মামদানির

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসকে মূল্যবান কোহিনূর হীরা ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। স্থানীয় সময় বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের তৃতীয় দিনে বুধবার ‘নাইন-ইলেভেন’ হামলায় নিহতদের স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজা চার্লস ও রানী ক্যামিলা। ওই অনুষ্ঠানে মামদানিও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় মেয়রকে জিজ্ঞেস করা হয়, রাজার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার সুযোগ পেলে তিনি কি বলবেন?

জবাবে মামদানি বলেন, ‘আমি যদি আলাদাভাবে রাজার সঙ্গে কথা বলতে পারি, তাহলে তাঁকে কোহিনূর হীরা ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানাব।’ অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মামদানিকে রাজার সঙ্গে আলাপ করতে দেখা যায়। তখন তিনি বিতর্কিত বিষয়টি তুলেছিলেন কি না তা স্পষ্ট নয়। সাক্ষাতে হাত মেলানোর পর দুজনকে এক সময় হাসতেও দেখা যায়।

আরও পড়ুন:  জাতীয় কবির সমাধির পাশে সমাহিত শহীদ হাদি

প্রায় দুই’শ বছর আগে ভারত থেকে কোহিনূর হীরা নিয়ে যান ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা। বর্তমানে টাওয়ার অব লন্ডনে সংরক্ষিত ১০৬ ক্যারেটের এই হীরা খণ্ডটি ব্রিটেনের রাজমুকুটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এটি কুইন এলিজাবেথ দ্য কুইন মাদারের মুকুটেও ব্যবহার হয়েছে।

তবে হীরাটির মালিকানা নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিতর্ক চলছে। এটি এক সময় মুঘল সম্রাট, ইরানি শাহ এবং শিখ মহারাজাদের হাতে ছিল। পরে ১৮৪৯ সালে শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে পাঞ্জাব রাজ্য এটি কুইন ভিক্টোরিয়াকে দেয়।

ভারত বহুবার এই অমূল্য হীরাটি ফেরত চাইলেও সফল হয়নি। হীরাটি যে ভারতের খনিতে উত্তোলিত তা নিয়ে খুব বেশি সন্দেহ নেই। তবে এর ইতিহাসের সঙ্গে মিথ ও বাস্তবতার নানা গল্প মিশে গেছে। আফগানিস্তান, ইরান এবং পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ এই রত্নের মালিকানা দাবি করেছে।

আরও পড়ুন:  জিডিপির আকার প্রবৃদ্ধি থেকে মাথাপিছু আয় সবই কমবে

মামদানি হীরার খণ্ডটি ফেরতের আহ্বান জানানোর পর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন যুক্তরাজ্যের অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ। মামদানির আহ্বানকে তিনি রাজার অপমান হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘এই সুন্দর হীরা বর্তমানে টাওয়ার অব লন্ডনে প্রদর্শিত হচ্ছে। এটি সেখানেই থাকবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *