মিয়ানমারে বাজারে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত ৩৩

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে একটি বাজারে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত এবং আরও ৩৬ জন আহত হয়েছে বলে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। খবর এএফপির।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের কিয়াকতাও শহর সংলগ্ন বাজার ও পাশের সেতুতে আজ মধ্যাহ্নের দিকে চালানো এই হামলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বিকেলে ঘটনাস্থলে ৩০টিরও বেশি লাশ দেখেছেন। তিনি জানান, সেখানে ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপ এবং খাদে পরিণত হওয়া রাস্তার মাঝে মানবদেহের ছিন্নভিন্ন হওয়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।

তবে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সামরিক বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

খাইন নু নামে ওই বাজারের একজন দোকানদার জানান, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভানোর পর উদ্ধার করা লাশগুলো সবুজ প্লাস্টিকের শিটের নিচে সারিবদ্ধভাবে রাখলেও তার ছোট বোন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

আরও পড়ুন:  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এখনই সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

৫৭ বছর বয়সী এই নারী বলেন, ‘আমার ছোট বোন বাজারে যেখানে ফল বিক্রি করত, সেখানে গিয়ে দেখি সেই জায়গা বা তার কোনো অস্তিত্ব নেই।’

খাইন নু আরও বলেন, ‘কোথায় যাব তা-ও বুঝতে পারছি না। আমার ছোট বোনের যে ছোট মেয়েটি এতিম হয়ে গেল, তার জন্যও খুব চিন্তা হচ্ছে। যখনই ভবিষ্যতের কথা ভাবি, আমার বুকটা কষ্টে ফেটে যায়।’

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য। সোমবারের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাজার এলাকাটি সংঘাত শুরুর পর থেকেই বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।

এটি ভারতের সীমান্তে একটি নদীর তীরে অবস্থিত, যা মিয়ানমারের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া রাখাইন রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ হিসেবে কাজ করে। রাজ্যটি এখন তীব্র ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত।

আরও পড়ুন:  বাইডেনকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলল নিউইয়র্ক টাইমস

৪৯ বছর বয়সী খিন মিইন্ত চে নামের একজন অধিবাসী বলেন, ‘ফাইটার জেট আসার শব্দ শুনে আমি নিরাপত্তা চৌকির কাছে কুঁজো হয়ে লুকিয়ে পড়ি। কিছুক্ষণ পরই একটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। তারপর কিছুক্ষণের জন্য আমি আমার শোনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলাম।’

অবরুদ্ধ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি শহরাঞ্চল ছাড়া রাখাইনের প্রায় পুরোটাই এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। তবে রাশিয়া ও চীনের তৈরি যুদ্ধবিমানের বহর দিয়ে সামরিক বাহিনী এখনো তাদের ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম হচ্ছে।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান শাখাটি স্কুল, বৌদ্ধবিহার ও ধর্মীয় উৎসবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে নৃশংসতা চালানোর জন্যও অভিযুক্ত। এসব হামলা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য হতে পারে বলে মনে করে।

আরও পড়ুন:  পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক উপদেষ্টা হলেন সজীব ওয়াজেদ জয়

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের ফলে রাখাইনে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছে।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় আসার পর থেকে মিয়ানমারে সংঘাতের কারণে এক লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 5 =