৩১ দফা বাস্তবায়নে সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে : তারেক রহমান

রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা স্বৈরাচারের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে ৩১ দফা সবাই মিলে রচনা করেছিলাম। সেই ৩১ দফার পক্ষে বাংলাদেশের জনগণ রায় দিয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের জনগণের ৩১ দফা হয়ে গেছে। কাজেই এটি বাস্তবায়নে আমরা সমমনা যারা আছি, সবাই মিলে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমরা অতীতে একসঙ্গে ছিলাম, আছি এবং একসঙ্গেই থাকব। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিই নেই। তাই আসুন আগামীতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।’

জোট নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি ছোট ভাই হিসেবে আপনাদের বলব, আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ, আমাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আসুন আমরা সবাই মিলে জনগণের প্রত্যাশার জায়গাগুলো আগে খুঁজে বের করে তা পূরণের চেষ্টা করি। এটা করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো কোনো জায়গায় দ্বিমত হতে পারে, তবে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের বড় শক্তি হচ্ছে এদেশের জনগণ। জনগণের সমর্থন বিএনপিসহ সব যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আছে। তাই আমাদের শক্তি, জোর ততক্ষণ থাকবে, যতক্ষণ জনগণের সমর্থন আমাদের সঙ্গে থাকবে এবং সেটা আল্লাহর রহমতে আমাদের সঙ্গে আছে। কাজেই আমাদের মধ্যে যদি কোনো বিভেদ না থাকে, আমরা নিশ্চয়ই আমাদের ৩১ দফার আলোকেই হোক কিংবা জুলাই সনদের আলোকে হোক, ইনশাআল্লাহ সবাই মিলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

একটি বিশেষ দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমরা আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। অথচ আজকে অনেকেই এ সংগ্রামের দাবিদার হতে চায়। আমি নাম উল্লেখ করতে চাই না। তবে যাদেরকে একটি শব্দ ‘গুপ্ত’ ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষ তাদেরকে চেনে।”

আরও পড়ুন:  খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়াতেও এগিয়ে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে তারা কোথায় ছিল, এদেরকে আমরা অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। তবে তাদেরকে রাজপথে না পেলেও যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে আমরা দেখেছি। অথচ ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পরে এই গুপ্ত বাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছিল। কাজেই আসুন এসব গুপ্তদের হাত থেকে এ দেশকে রক্ষা করতে, দেশের মানুষ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে তা ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ হই।’

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আমরা এখানে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১টি দফা উপস্থাপন করেছিলাম বাংলাদেশের মানুষের সামনে। আমরা যখন এটি উপস্থাপন করেছিলাম, তখন বাংলাদেশের অন্য অনেকগুলো রাজনৈতিক দল সংস্কার নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছে। কিন্তু সেই রাজনৈতিক দলগুলোকে আমরা তখন সংস্কারের বিষয়ে কিছু বলতে শুনিনি। কিন্তু আজকে আমরা এই প্যান্ডেলের নিচে যারা বসে আছি একত্রে, আমরা তখন স্বৈরাচারের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রের সংস্কারের দফাগুলো দিয়েছিলাম।’

তারেক রহমান বলেন, কাজেই একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনে করি, যে ৩১ দফা আমরা সবাই মিলে বসে রচনা করেছিলাম, সেই ৩১ দফার পক্ষে বাংলাদেশের জনগণ রায় দিয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের জনগণের ৩১ দফা হয়ে গেছে। কাজেই এটি বাস্তবায়নে আমরা সমমনা যারা আছি, সবাই মিলে কাজ করতে হবে।

ক্ষমতা গ্রহণের পরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের কী ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া পুরো দেশ ছিল বিধ্বস্ত। ইকোনমি, জ্বালানি, বিদুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রত্যেকটি ব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর। এই অবস্থায় আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। তারপরেও আমরা রাত-দিন পরিশ্রম করার মাধ্যমে চেষ্টা করেছি কীভাবে দেশের মানুষকে একটু স্বস্তি দেওয়া যায়। শতভাগ পেরেছি কিনা জানি না, তবে আমরা চেষ্টা করেছি এবং করে যাচ্ছি। শতভাগ না হলেও নিশ্চয়ই কেউ অস্বীকার করবে না-একদম নতুন একটি সরকার হিসেবে যেভাবে কাজ করছি, তাতে মানুষজনকে কিছুটা হলেও আমরা কমফোর্ট দিতে সক্ষম হয়েছি। আগামীতে সরকার পরিচালনায় সবাইকে আহ্বান জানাব আমাদের পাশে থাকার।’

কুশল বিনিয়ম পর্বের পর নেতাদের নিয়ে রাতে খাবার টেবিলে বসেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:  ঈদের আগে পরীক্ষামূলক ফ্যামিলি কার্ড চালু করতে চায় সরকার

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে। কোরআন তেলোয়াত করেন ইসলামী ঐক্যজোটের শওকত আমিন।

শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক সাইফুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বুফে দাঁড়িয়ে শরিক নেতাদের সঙ্গে খাবার নেন এবং শরিক নেতাদের সাথে এক টেবিলে খাবার খান। এ টেবিলে ছিলেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু।

আরও পড়ুন:  মেসির একাধিক গোল মিস, তবু্ও জয় দিয়ে শুরু আর্জেন্টিনার

জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়তে উলামায়ে মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, সাম্যবাদী দলের নুরুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির আবুল কাসেম, কল্যাণ পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের মহিউদ্দিন কাদরি শওকত, খোকন চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ ন্যাপের শাওন সাদেকী, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ-এর নুরুল আমিন ব্যাপারি, গণ দলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল করীম, বাংলাদেশ সংখ্যালঘু জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মন্ডল, গণফোরামের মিজানুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর, ফারুক হাসান, আম জনতা দলের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মিয়া মসিউজ্জামান, আম জনতার দলের তারেক রহমান, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) সাধারণ সম্পাদক হারুন চৌধুরী, ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির আমিনুল ইসলাম, খন্দকার আহসান হাবিব, জনতার অধিকার পার্টির তারিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, এম এ আর রাজা রহমান, এনডিপির একাংশের কেএস আবু তাহের, অপর অংশের আবদুল্লাহ আল হারুন, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, বিএনপির শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, রেদোয়ান আহমেদসহ ৪১ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *