ইউরোপে অভিবাসন ও আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ায় এসেছে বড় পরিবর্তন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভিবাসন ও আশ্রয়সংক্রান্ত নতুন আইন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ ১২ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। ফলে ইউরোপে অভিবাসন এবং আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন।

বিশেষ করে অনিয়মিত পথে ইউরোপে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য নতুন এই নিয়ম আরও কঠোর বাস্তবতা তৈরি করেছে।নতুন আইনের আওতায় ইইউর বাইরের সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারীদের বাধ্যতামূলক ‘প্রি-এন্ট্রি স্ক্রিনিং’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

এ সময় তাদের পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।যাদের আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা কম বা যাদের দেওয়া তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়া যাবে, তাদের ক্ষেত্রে সীমান্তেই দ্রুত নিষ্পত্তির (ফাস্ট-ট্র্যাক) প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

এতে আবেদন দ্রুত খারিজ হয়ে প্রত্যাবাসনের ঝুঁকি বাড়বে।আশ্রয় আবেদন ব্যবস্থাতেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়টি বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে জটিল
কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে বা আবেদনকে ভিত্তিহীন মনে হলে তা বাতিল করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হতে পারে। তবে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য কিছু ইতিবাচক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যোগ্য আবেদনকারীরা আগের তুলনায় দ্রুত শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন।

নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘ইউরোড্যাক’ ডেটাবেসের সম্প্রসারণ। এর আওতায় আশ্রয়প্রার্থীদের বায়োমেট্রিক তথ্যসহ বিভিন্ন তথ্য আরও সমন্বিতভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে এক দেশে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অন্য সদস্য রাষ্ট্রে গিয়ে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে যাবে।

এছাড়া সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের দায়িত্ব ভাগাভাগির জন্য নতুন ‘সলিডারিটি মেকানিজম’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইইউজুড়ে আশ্রয় ব্যবস্থাপনাকে আরও সমন্বিত ও নিয়ন্ত্রিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:  নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে নতুন আইন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিমালা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর। ফলে অনিয়মিত পথে অভিবাসনের ঝুঁকি যেমন বেড়েছে, তেমনি বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের গুরুত্বও অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাদের পরামর্শ, ইউরোপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা, কাজের অনুমতি ও অভিবাসন নীতিমালা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা এবং বৈধ পথ অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 − 3 =