আমের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও রপ্তানি বাজারে অনিশ্চয়তা

প্রাকৃতিক চক্র অনুযায়ী চলতি মৌসুমে দেশে আমের ফলন গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও রপ্তানি খাতে নতুন করে শঙ্কার মেঘ দেখা দিয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানের ভাষায় এবার ‘অন ইয়ার’ চলায় দেশের বাগানগুলোতে আমের মুকুল ও গুটির সমারোহ ছিল নজরকাড়া, যার ফলে এবার ২৭ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

তবে বাম্পার ফলনের এই খুশির খবরের মাঝেও আন্তর্জাতিক বাজারে আম পাঠানোর উচ্চ পরিবহন ব্যয় ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে উড়োজাহাজ ভাড়া রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বিদেশে আম পাঠানোর প্রক্রিয়া চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক হলেন জহির হোসেন

রপ্তানিকারকদের মতে, বাগান থেকে আম সংগ্রহ, বাছাই ও প্যাকেজিং মিলিয়ে কেজিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৫০ টাকা। এরপর আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় যোগ হলে ভারত বা পাকিস্তানের আমের তুলনায় বাংলাদেশের আমের দাম কেজিতে প্রায় ১ থেকে দেড় ডলার বেশি পড়ছে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো ফল রপ্তানির মৌসুমে বিশেষ কার্গো বিমান পরিচালনা করলেও বাংলাদেশে তেমন কোনো সুবিধা নেই। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, “এবার আমের উৎপাদন ভালো। নানা জটিলতায় গত দুই বছরও আম রপ্তানি ভালো হয়নি। রপ্তানি প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবার বড় উদ্যোগ প্রয়োজন। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং ২১ মে’র বৈঠকে প্রস্তাব তোলা হবে।”

আরও পড়ুন:  ট্রাম্পের ‘পতনের’ ভবিষ্যদ্বাণী করলেন খামেনি

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৩ হাজার ১০০ টন আম রপ্তানি করে রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ, যা গত বছর কমে ২ হাজার ১৯৪ টনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ৩৮টি দেশে বাংলাদেশের আম যাচ্ছে, যার মধ্যে ইউরোপের দেশগুলো ছাড়াও নতুন করে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ বছর ২ লাখ ৭ হাজার হেক্টর জমি থেকে রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। গত ১৫ মে থেকে সাতক্ষীরার আমের মাধ্যমে বাজারের যাত্রা শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ল্যাংড়া, আম্রপালি ও ফজলি আম ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের ও বিদেশের বাজারে মিলবে। তবে রপ্তানি জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে আম চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − seven =