৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১২২ ডলারের বেশি ছুঁয়েছে। খবর রয়টার্স। 

বুধবার রাতে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে একটি ব্রিফিং করবেন। উদ্দেশ্য, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফিরিয়ে আনা। এই খবর প্রকাশের পরই তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩.৭৩ ডলার বা ৩.২ শতাংশ বেড়ে ১২১.৭৬ ডলারে পৌঁছায়, যা দিনের মধ্যে একপর্যায়ে ১২৬.৪১ ডলার স্পর্শ করে। এই দাম ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ। জুন মাসের চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। অন্যদিকে জুলাইয়ের সক্রিয় চুক্তির দাম দাঁড়িয়েছে ১১১.৮৯ ডলার।

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরান হামলা শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

আরও পড়ুন:  সোমবার ফের বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আবারও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তেল ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পিভিএমের জন ইভানস বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ার জন্য খুব বেশি প্রণোদনার প্রয়োজন নেই। যারা মনে করেন ব্রেন্টের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে না, তাদের এখনই সতর্ক হওয়া উচিত।’

অন্যদিকে, ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে ১০৮.৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দিনের মধ্যে ১১০.৯৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল—এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। উভয় সূচকই টানা চতুর্থ মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংঘাত নিরসনের আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে চায়, আর ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।

আরও পড়ুন:  কাজাখস্তানে প্লেন দুর্ঘটনায় জীবিত উদ্ধার ৩২

আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সিকামোর বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদে এই সংঘাতের সমাধান বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের প্রভাব মোকাবিলায় ট্রাম্প বুধবার তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

ওয়ান্ডার সিনিয়র বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, ‘বর্তমানে বাজারের মূল নজর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ থাকার ঝুঁকির দিকে।’

এদিকে প্রায় ৬০ বছর পর ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এতে ওপেক প্লাস জোটের বাজার নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হতে পারে জোটটি, তবে বাস্তবে অনেক দেশ উৎপাদন বাড়াতে পারবে না।

আরও পড়ুন:  সিরিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন বাশার-আল আসাদ

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ ঘাটতি পূরণে একমাত্র সম্ভাব্য উপায় হতে পারে চাহিদা কমানো। আইএনজি ব্যাংকের বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ দামের কারণে দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেলের চাহিদা কমতে পারে। তবে এটিও বর্তমান সরবরাহ সংকট পূরণে যথেষ্ট নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *