নির্বাচনে কোনো লুকোচুরি থাকবে না: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বিদেশি কূটনীতিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং কোনো ধরনের লুকোচুরি সুযোগ থাকবে না।

আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে সংসদ ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ্রিং শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের থাকতে দেওয়া হয়নি।

সিইসি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আমরা কী কী প্রস্তুতি নিয়েছি, প্রতিটি ধাপে কী কাজ করেছি সবকিছু বিস্তারিতভাবে তাদের (কূটনীতিক) সামনে তুলে ধরেছি। আমরা প্রত্যেকটি পর্যায়ে আমাদের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে ব্রিফ করেছি। তারা এতে সন্তুষ্ট। তারা অত্যন্ত খুশি এবং আস্থাশীল যে আমরা ইনশা আল্লাহ একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারব।’

আরও পড়ুন:  হজ পালনে সৌদি গেলেন ৭৭৪৩২ বাংলাদেশি

সিইসি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটি সর্বোচ্চ স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপির সুযোগ না থাকে। বিষয়টি কূটনীতিকদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তারা তা প্রশংসার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।’

কূটনীতিকদের প্রশ্ন প্রসঙ্গে সিইসি জানান, ‘তারা মূলত পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। আমরা তাদের জানিয়েছি নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসারসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। ভোটাররা যেন নিরাপদ পরিবেশে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে নির্বিঘ্নে ফিরে যেতে পারেন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘অভিযোগ ব্যবস্থাপনার জন্য মাঠপর্যায়ে যে ব্যবস্থা চালু আছে, সেটিও কূটনীতিকদের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কীভাবে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:  ইতিহাসে প্রথম একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট

সিইসি আরও বলেন, ‘তারা (কূটনীতিকরা) কোনো ধরনের পরামর্শ দেননি। কারণ, তারা আমাদের উদ্দেশ্য ও নিয়ত সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছেন। আমাদের ফোকাস একটাই—দেশবাসীকে একটি সুন্দর, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া।’

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমেদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *