শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ভারতের বিবৃতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার এ রায় ঘোষণার পর একটি বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিটি নিজের ভেরিফায়েড এক্স (আগের টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক শেখ হাসিনা  বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় নিয়ে ভারত অবগত। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতাসহ সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উদ্দেশ্যে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে যাব।

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী সোমবার ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ভারতের বিবৃতিতে এ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

আরও পড়ুন:  পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন: প্রথম দফায় রেকর্ড ৯৩ শতাংশ ভোটদান

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দেওয়া বিবৃতি। স্ক্রিনশট

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সোমবার একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। যেটির শিরোনাম ‘হোয়াই দিস ভার্ডিক্ট পুটস ইন্ডিয়া ইন আ ট্রিকি সিচুয়েশন’। এটি লিখেছেন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক প্রতিবেদক অন্বরাসন এথিরাজন। এতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দোষী সাব্যস্ত হওয়াটা ভারতের জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

বিশ্লেষণে আরও লেখা হয়েছে, ঢাকা এর আগেও প্রত্যর্পণ চেয়েছিল। কিন্তু ভারত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তিও আছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে- অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হলে ভারত অনুরোধ অস্বীকারের পূর্ণ আইনি অধিকার রাখে।

আরও পড়ুন:  ঝেংয়ে ধরাশয়ী শিয়াওতেক, ইতিহাসের পথে আলকারাস

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আওয়ামী লীগ নেত্রী দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। ভারতের রাজনৈতিক পরিসরেও তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে স্পষ্ট অনীহা আছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত এখন এক কূটনৈতিক টানাপোড়েনে আছে। অন্বরাসন এথিরাজন লিখেছেন, প্রত্যর্পণ অনুরোধ নাকচ করলে তা ঢাকার কাছে বিরূপ কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও চাপের মুখে ফেলবে। আবার অনুরোধ মেনে নেওয়ার মানে হলো; দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রকে উপেক্ষা করা। ফলে, ভারতকে এখন খুবই সংবেদনশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ পথে হাঁটতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *