পক্ষপাতের অভিযোগে বিবিসির মহাপরিচালক ও বার্তাপ্রধানের পদত্যাগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সংবাদ পরিবেশনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠার পর বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং বার্তাপ্রধান ডেবোরাহ টারনেস পদত্যাগ করেছেন।

রোববার (০৯ নভেম্বর) তারা পদত্যাগ করেন। বিবিসির সাবেক একজন পরামর্শক এই অভিযোগ তোলার পর দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য সম্পাদনার জন্য বিবিসি ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যেই তারা পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন।

টিম ডেভি এক বিবৃতিতে বলেছেন, কিছু ভুল হয়েছে এবং মহাপরিচালক হিসেবে শেষ পর্যন্ত আমাকে দায় নিতে হবে।

আর বিবিসি নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেবোরাহ টারনেস বলেছেন, চূড়ান্তভাবে এই দায়ভার আমার।
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন ছিল বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বিবিসির এডিটরিয়াল গাইডলাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস কমিটির (ইজিএসসি) সাবেক পরামর্শক মাইকেল প্রেসকট বিবিসির সংবাদ পরিবেশনে পক্ষপাতিত্বের এই অভিযোগ তোলেন।

আরও পড়ুন:  ইরানের ওপর আবারও নৌ-অবরোধ যুক্তরাষ্ট্রের

এর মধ্যে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফে বিবিসির অভ্যন্তরীণ একটি নথি প্রকাশিত হয়। তাতে প্রতীয়মান হয়, বিবিসি তাদের ‘প্যানোরামা’ তথ্যচিত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য সম্পাদনা করে ব্যবহার করেছিল। সেখানে ট্রাম্পের বক্তব্যের দুটি অংশ এমনভাবে জোড়া লাগানো হয়েছিল যে মনে হয়, তিনি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে হামলায় সমর্থককে বেপরোয়াভাবে উৎসাহিত করেছেন।

সম্পাদনার পর ট্রাম্পের বক্তব্য দাঁড়ায়, ‘আমরা ক্যাপিটলের দিকে যাচ্ছি এবং আমি সেখানে আপনাদের সঙ্গে থাকব এবং আমরা লড়াই করব। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করব।’

ট্রাম্পের ভাষণে এ কথাগুলো থাকলেও সেগুলোর মধ্যে আরো অনেক কথা ছিল। তার বক্তব্যের অংশবিশেষ এভাবে জোড়া লাগানোর বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর বিবিসির সমালোচনায় সোচ্চার হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। এই সপ্তাহান্তে তিনি বিবিসিকে ‘শতভাগ ভুয়া খবর’ এবং একটি ‘অপপ্রচারের যন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

আরও পড়ুন:  ২০০০ কর্মী ছাঁটাই করবে বিবিসি, বছরে ব্যয় কমাবে প্রায় ৬৮ কোটি ডলার

বিবিসির দুই শীর্ষ কর্তার পদত্যাগের পরেও এক্সে এক পোস্টে বিবিসিকে একহাত নিয়েছেন ক্যারোলিন লেভিট। ওই পোস্টে টিম ডেভির পদত্যাগের খবরের পাশে “ট্রাম্প গোজ টু ওয়ার উইথ ‘ফেক নিউজ’ বিবিসি” শিরোনামে টেলিগ্রাফের প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট তুলে দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 + twelve =