তুরস্কের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৬ জনের মৃত্যু

তুরস্কের মধ্যাঞ্চলীয় বোলু প্রদেশের স্কি রিসোর্টের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো কমপক্ষে ৫১ জন। 

স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জানুয়ারি) দিনগত রাতে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত গ্র্যান্ড কার্তাল নামের হোটেলটিতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর আল জাজিরা ও বিবিসির।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, কার্তালকায়া স্কি রিসোর্টে কাঠের তৈরি ১২ তলা হোটেলে স্থানীয় সময় সোমবার দিনগত রাত ৩টা ২৭ মিনিটে আগুন লেগে যায়। আগুন দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে ও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অগ্নিকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিহতের সংখ্যা ১০ জানালেও, পরে তা ৬৬ হওয়ার কথা জানিয়েছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলের জানালা থেকে লাফিয়ে পড়ে কমপক্ষে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। টেলিভিশন ফুটেজে হোটেলের পিছনে তুষারাবৃত পাহাড়ের সাথে আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন:  ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত কমিশন : সিইসি

বোলুর গভর্নর আব্দুল আজিজ আইদিন বলেছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে যে হোটেলের চতুর্থ তলার রেস্তোরাঁ অংশে আগুন লেগেছে ও উপরের তলায় ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, কার্তালকায়ায় অবস্থিত হোটেল এবং বোলুর কেন্দ্রস্থলের মধ্যে দূরত্ব ও ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে দমকল বাহিনীর পৌঁছাতে এক ঘন্টারও বেশি সময় লেগেছে।

সকাল পর্যন্ত উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে জরুরি পরিষেবাগুলি আগুন নেভানোর জন্য ২৬৭ জনকে মোতায়েন করেছে। মধ্যরাত নাগাদ স্থানীয় মেয়র জানিয়েছেন, তারা এখনো হোটেলের কিছু অংশে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় হোটেলটিতে ২৩৪ জন অবস্থান করছিলেন। এদের মধ্যে শতকরা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বর্তমানে স্কুল বন্ধ থাকায় অবকাশ কাটাতে সেখানে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:  আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার পর্দা উঠছে কাল

আগুন থেকে বাঁচার জন্য লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করতে গিয়ে নিহত হন অন্তত দুইজন। বিবিসি জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২ ঘন্টা লেগেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেল মালিকসহ গ্রেপ্তার হয়েছে ৪ জন। আইন মন্ত্রণালয় একথা জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *