টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে
রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, নাটকীয়তা ভরা ম্যাচের সাক্ষী হল ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়াম। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচ গড়িয়েছে সুপার ওভারে।

নামিবিয়া-ওমান ম্যাচের পর এবার সুপার ওভারে গড়িয়েছে পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ম্যাচ। যেখানে শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে বিশ্বকাপ টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বাংলাদেশকে সিরিজ হারিয়ে চমকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র কানাডার পর এবার কাঁপিয়ে দিল পাকিস্তানকে। শুধু কাঁপিয়ে দিয়ে নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তিদের হারিয়ে তুলে নিয়েছে ঐতিহাসিক জয়। সুপার ওভারে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে স্বাগতিকরা অঘটনই ঘটিয়েছে।

অঘটন বলা যায় কি না, এনিয়ে তর্ক হতে পারে। তবে মার্কিনিদের কাছে এই জয় যে ঐতিহাসিক তা বলাই যায়। কেননা প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেই সাবেক চ্যাম্পিয়ন ও টেস্ট খেলুড়ে দলকে পরাজয়ের স্বাদ দিয়ে ইতিহাস রচনা করেছে তারা।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন পাক অধিনায়ক বাবর আজম। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। বাবর আজম ও শাদাব খানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। আর শেষ দিকে ইফতিখার আহমেদের ১৪ বলে ১৮ ও শাহিন আফ্রিদির ১৬ বলে ২৩ রানে চোট্ট ক্যামিওতে ভর করে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। শাদাব ২৫ বলে ৪০ ও বাবর ৪৩ বলে ৪৪ রান করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সৌরভ নেত্রাভালকার নেন ৩টি উইকেট।

আরও পড়ুন:  ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

১৬০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলকে ভালো শুরু এনে দেন দুই মার্কিন ওপেনার স্টিভেন টেইলর ও মোনাঙ্ক প্যাটেল। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৬ রান যোগ করেন এই দুই ওপেনার। তবে ১৬ বলে ১২ রান করে ফিরে যান টেইলর।

এরপর ক্রিজে আসা অ্যান্ড্রিস গাউসকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন মোনাঙ্ক। ৬৮ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটার। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন মোনাঙ্ক। এই দুই ব্যাটারের ব্যাটে জয়ের পথেই ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এরপর দ্রুতই জোড়া উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। গাউস ২৬ বলে ৩৫ ও মোনাঙ্ক ৩৮ বলে ৫০ রান করে আউট হন। তাদের বিদায়ের পর রানের চাকা সচল রাখেন অ্যারন জোন্স ও নিতিশ কুমার। শেষ বলে জয়ের জন্য ৫ রান প্রয়োজন হয় যুক্তরাষ্ট্রে। সেই বলে চার মেরে ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়ে যান নিতিশ। জোন্স ২৬ বলে ৩৬ ও নিতিশ ১৪ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

আরও পড়ুন:  সায়মার মনোনয়ন বাংলাদেশ-চীন স্বাস্থ্য সহযোগিতা বাড়াবে : রাষ্ট্রদূত

সুপার ওভারে বাজে বোলিং করেন মোহাম্মদ আমির। তিনটি ওয়াইড দেন তিনি। সুপার ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১৮ রান সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯ রানের টার্গেটে ব্যাট প্রথম দুই বলে এক চারের সাহায্যে পাঁচ রান সংগ্রহ করেন ইফতিখার আহমেদ। তৃতীয় বলে এই ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান সৌরভ নেত্রাভালকার।

ইফতিখারের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন শাদাব খান। শেষ বলে জয়ের জন্য ৭ রান প্রয়োজন হয় পাকিস্তানের। শেষ বলে মাত্র ১ রান নিতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। ফলের জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র।

হারিস রউফের করা সেই বলে নিতিশ কুমার রাউন্ডারি মেরে ম্যাচ নিয়ে যান সুপার ওভারে। ভাগ্য নির্ধারণী মোহাম্মদ আমিরের ওভারে যুক্তরাষ্ট্র তুলে ১৮ রান। জবাব দিতে নেমে সৌরভ নেত্রাভালকারের করা ওভারে পাকিস্তান তুলতে পারে ১৩ রান। তাতে ৫ রানের জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হয় যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ধস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনে। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে তিন উইকেটে তাদের বোর্ডে যোগ হয় মাত্র ৩০ রান। ২৬ রানের মধ্যে মোহাম্মদ রিজওয়ান (৯), উসমান খান (৩) ও ফখর জামানকে (১১) হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নরা। নসথুশ কেনজিগে, আলী খান, সৌরভ নেত্রাভালকারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারছিল না পাকিস্তানের ব্যাটাররা। এরপর শাদাব খান ২৫ বলে তিন ছক্কা ও একটি চারে করেন ৪০ রান।

শূন্য রানে ফেরেন আজম খান। ধীরগতিতে ব্যাট করা বাবর আজম ৪৩ বলে করেন ৪৪ রান। শেষ দিকে শাহীন আফ্রিদির ১৬ বলে ২৩ রানের ক্যামিওতে লড়াইয়ের পুজি পায় পাকিস্তান।জবাব দিতে নেমে স্টেভেন টেইলরকে (১২) নাসিম শাহ ফেরালেও অধিনায়ক মোনাংক প্যাটেল ও আন্দ্রিয়েস গুসের ব্যাটে এগোতে থাকে। গুস (৩৫) ফেরার আগে দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে যোগ করেন ৬৮ রান। দ্রুতই ফিরে ফিরে যান অধিনায়ক মোনাংক প্যাটেলও (৫০)। আগের ম্যাচে বিধ্বংসী ইনিংস খেলা অ্যারোন জোনস (৩৫) এদিনও আশা বাঁচিয়ে রাখেন। শেষ ওভারে ১৫ রান লাগলে যুক্তরাষ্ট্র তুলে ১৪ রান। তাতে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেই বাজিমাত করে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:  হার দিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারলো বাংলাদেশ

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *