রক্তের কোনো টান নেই। অথচ গড়ে ওঠে এক গভীর সম্পর্ক। জীবনের সবচেয়ে গোপন কথা, আনন্দ আর বেদনার মুহূর্তগুলো তার কাছেই অবলীলায় প্রকাশ করা যায়। সামাজিক কোনো বাধ্যবাধকতা বা জন্মসনদ ছাড়াই গড়ে ওঠা এই সম্পর্কের নামই বন্ধুত্ব। মানুষের তৈরি যাবতীয় সম্পর্কের মধ্যে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে স্বাধীন এবং গভীর।
বন্ধুত্বের এই গভীরতা ও মাহাত্ম্য যুগে যুগে উঠে এসেছে বিখ্যাত সব মনীষীদের কথায়। বিখ্যাত গল্পকার মারিও পুজো যেমন বন্ধুত্বকে প্রতিভার চেয়ে বড় এবং পরিবারের প্রায় সমতুল্য মনে করেছেন, তেমনি আইনস্টাইনের মতে সত্যিকারের ভালোবাসা যেমন দুর্লভ, খাঁটি বন্ধুত্ব তার চেয়েও বিরল। রবার্ট লুইস স্টিভেনসন বা আলবেয়ার কামুর মতো চিন্তাবিদরা মনে করেন, কোনো শর্ত বা নেতৃত্ব ছাড়া পাশাপাশি হাঁটার নামই বন্ধুত্ব। অন্যদিকে আলবার্ট কামু একে ভালোবাসারই একটি রূপ বলেছেন এবং এরিস্টটলের দৃষ্টিতে বন্ধু হলো নিজেরই আরেক সত্তা।
আগস্টের প্রথম রবিবার হোক কিংবা জাতিসংঘ ঘোষিত ৩০ জুলাই—দিনের সীমা ছাড়িয়ে বন্ধুত্বের আবেদন প্রতিদিনের, আর প্রকৃত বন্ধুত্ব চিরকালের।







