জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ‘ফেরা’ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টার বক্তব্যে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের কথা বললেও, ভিন্ন মত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’
এর আগে মঙ্গলবার দেয়া দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ। এরপর তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে বলে তিনি মনে করেন।
মাহফুজ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দাঁড় করানো, ডানপন্থি শক্তির উত্থান, মাজার ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং আইনের শাসনের পরিবর্তে ‘মবের শাসন’কে প্রশ্রয় দেওয়ার মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ২৪ কে ৭১ এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি।
এ ছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে ডানপন্থার উত্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়াও আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের একটি কারণ বলে মনে করেন মাহফুজ আলম। তার মতে, উগ্রবাদীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হওয়া এবং কিছু ব্যক্তিকে ‘মবস্টার’ হয়েও নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন মাহফুজ আলম। তিনি দাবি করেন, কাঙ্ক্ষিত ব্যবস্থা পরিবর্তনের বদলে সীমিত সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টাও আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মাহফুজ আলমের পোস্ট প্রকাশের প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান আসিফ নজরুল। সংক্ষিপ্ত হলেও তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক উপস্থিতির চেয়ে দলটির রাজনৈতিক আচরণ ও প্রচারণাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।







