কারাগারে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

নওগাঁ জেলা কারাগারে মারা গেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বগুড়া জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন নবাব (৬৩)।

কারাগারটির জেল সুপার রত্না রায় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার সকালে জাকির হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকাল ১১টায় তাকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পৌনে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।’

তার অসুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে রত্না দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ওনার কোনো ক্রনিক অসুখ ছিল কি না, সেটা এখনো জানি না। সকালে তিনি হার্ট অ্যাট্যাক করেন বলে জেনেছি। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে, ময়নাতদন্ত চলছে। এরপর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’

জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা ছিল। এক বছর আগে বগুড়া জেলা কারাগার থেকে নওগাঁ কারাগারে আনায় হয় তাকে।

আরও পড়ুন:  ডায়াবেটিসের উচ্চঝুঁকিতে ৭০ শতাংশ মানুষ

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার রেহনুমা মুনমুন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাকির হোসেনকে খুবই সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।’

দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে হাসপাতালটিতে দায়িত্বরত কয়েকজন মেডিকেল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ কল ধরেননি।

হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট আ ম আখতারুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তিনি ঢাকায় আছেন। একজন মেডিকেল কর্মকর্তার নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিলে সেই নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

জাকির হোসেন আগে থেকেই কোনো রোগে আক্রান্ত ছিলেন কি না, জানতে চাইলে তার ছেলে জোবাইদ আল ফাহাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাবার উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টোরল ছিল। কারা কর্তৃপক্ষ তার ঠিকমত চিকিৎসা করতো না। আমার ওষুধ দিলেও সেগুলো বাবাকে খেতে দিত না। এমনকি তাকে যেসব খাবার খেতে দিত, সেগুলো খেলে বাবা আরও অসুস্থ অনুভব করতেন বলে আমাদের জানিয়েছিলেন।’

আরও পড়ুন:  মহান স্বাধীনতা উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবারও বাবার সঙ্গে আমরা দেখা করে গিয়েছি। তখন সুস্থ ছিলেন। হঠাৎ কি এমন হলো যে তিনি দু-এক ঘণ্টার মধ্যে মারা গেলেন?’

ফাহাদ দাবি করেন, ‘কারাগারে বাবার ওপর মানসিক নির্যাতন করা হতো।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেল সুপার রত্না সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রেসক্রিপশনসহ যেকোনো ওষুধ দিলে আমার সেটা কেন খেতে দিব না? এই অভিযোগ সত্য নয়।’

পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তার ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। আর তিনি প্রায় এক বছর ধরে এই কারাগারে আছেন। খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এমন কিছু কখনোই আমাদের নজরে আসেনি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − one =