পাসপোর্ট হারালে প্রথমবার নির্ধারিত ফি দিয়েই তা পুনরায় ইস্যু করা যাবে। দ্বিতীয়বার পাসপোর্ট হারালে বা তারপর যতবার পাসপোর্ট হারাবে তা পুনরায় ইস্যু করতে নির্ধারিত ফি-র অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।
হারিয়েছে বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করা পাসপোর্ট প্রত্যাহার করার পর তা পাওয়া গেলেও পুনরায় সক্রিয় বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। এমন সব নিয়ম রেখে হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর বিষয়ে গত সোমবার নতুন পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সেখানে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট প্রথমবার হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত দণ্ড ফি আরোপ করা হবে না। পরবর্তী সময়ে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকবার নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি আরোপ করা হবে।
সরকার বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনরায় ইস্যুর আবেদন করছেন। পাসপোর্ট একটি সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানব পাচার, অবৈধ প্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপসহ গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার পর দ্রুত তা বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করতে হবে। পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সঠিকতা যাচাই করে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে প্রতিবেদন পাঠাবে। তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে জিডির কপি সংযুক্ত করে পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর আবেদন করা যাবে। এরপর বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর হারানো বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, জিডি যাচাইয়ের সময় যদি দেখা যায়, ভিসা পাওয়ার উদ্দেশে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাওয়া বা উদ্ধার করা সম্ভব নয়, তাহলে আগের পাসপোর্ট প্রত্যাহার করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে। হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর পুলিশের বিশেষ শাখা তাদের ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করবে। প্রয়োজনে ইন্টারপোলকে অবহিত করাসহ বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন লস্ট সার্কুলার জারি করে পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর সময় ডেটা পেজে স্পষ্টভাবে আগের পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে লেখা থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডেটাবেইসে আগের পাসপোর্টের লস্ট/রিভোকড অবস্থা হালনাগাদ করতে হবে।
হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবার ও মায়ের নামসহ মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ তথ্য সংশোধনের বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করা যাবে।
কোনো পাসপোর্ট আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিনষ্ট হলে এবং শনাক্তযোগ্য অংশ বাহকের দখলে থাকলে তা সমর্পণের ভিত্তিতে পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যু করা যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট সম্পূর্ণ বিনষ্ট হওয়ার ফলে বাহককে চিহ্নিত করার কোনো অংশবিশেষ প্রদর্শন করা সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যু করতে হবে।
এ ছাড়া হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করা পাসপোর্ট প্রত্যাহার করার পর সেটি পরবর্তী সময়ে পাওয়া গেলেও পুনরায় সক্রিয় বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। পাসপোর্টটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় এবং নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় জানাতে হবে। বিদেশে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকেও অবহিত করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডেটাবেইস ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করবে।







