ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তর হচ্ছে বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ

‎উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত দ্বীপ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মধুমতি, এমভি রূপসা এবং এমভি সুগন্ধাকে আধুনিক ‘ভাসমান হাসপাতাল’-এ রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) বাদামতলী বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনালে এই বিশেষ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের সময় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী। এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিসির পরিচালকসহ দুই মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:  শহীদদের স্মরণ করলেন ক্রিকেটাররা

‎অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনায় সরকারের এই পদক্ষেপ গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এই ভাসমান হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, নৌপথকে ব্যবহার করে মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি অনন্য নজির স্থাপন করবে। জাহাজগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুবিধাদিসহ ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তর করতে বিআইডব্লিউটিসি একসঙ্গে কাজ করবে।

আরও পড়ুন:  পদ্মায় ফেরিডুবি: ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিকভাবে এই জাহাজগুলোতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব এবং বহির্বিভাগসহ একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে। এর ফলে দুর্যোগপূর্ণ সময় কিংবা সাধারণ সময়েও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নদীমাতৃক মানুষজন মূল ভূখণ্ডে না এসেই উন্নত চিকিৎসাসেবা লাভ করতে পারবেন।

এ সময় প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। সরকারের এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান জনাব এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী এবং ঘাটে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + 8 =