ক্যান্টনমেন্ট থানার প্রত্যাহার হওয়া ওসি ডিবি হেফাজতে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলামকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ডিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রাতে ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালেই ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্ব থেকে রাকিবুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাকিবুল ইসলামকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়বস্তু বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:  ডিএমপির ৮ ডিসিকে বদলি

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত ওই অডিওতে একজন ব্যক্তিকে পুলিশের সক্ষমতা, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অবস্থান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে কথা বলতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়।

অডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।’

অডিওতে আরও দাবি করা হয়, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়ছেন, তবে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা সে অবস্থানে নেই। পুলিশের বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও কথোপকথনে আলোচনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। পরে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমেও আসে এবং এর মধ্যেই ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে রাকিবুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়।

আরও পড়ুন:  আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই

তবে ভাইরাল হওয়া অডিওর বক্তব্য নিজের নয় বলে দাবি করেছেন রাকিবুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার প্রত্যাহারের পর নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, অডিওটি ‘অ্যাডভান্স এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

তার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এমন অডিও তৈরি করা সম্ভব, যা শুনলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কণ্ঠ বলেই মনে হতে পারে। তিনি যাচাই-বাছাই ছাড়া অডিওটি প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।

ফলে এখন অডিওটির উৎস, কণ্ঠের সত্যতা এবং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

ডিবির এক কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে অডিওটির উৎস, রেকর্ডিংয়ের সময় ও স্থান, কথোপকথনে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কীভাবে ছড়িয়েছে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হতে পারে।

আরও পড়ুন:  বাংলাদেশ-ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অনেক গভীর: দিনেশ ত্রিবেদী

একই সঙ্গে অডিওতে পুলিশের পদায়ন নিয়ে ঘুষ লেনদেনের যে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেটির কোনো ভিত্তি আছে কি না, থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কারা সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + 18 =