দুই প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বসলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৈঠক করলে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকালে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) শিশুদের খেলার জায়গা উদ্বোধন করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি তারেক রহমানের ভাষণ অনেকবার শুনেছি। তিনি একজন জনদরদী মানুষ, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও তাই। আমার মনে হয়, যখন দুই নেতা মিলিত হন, তখন অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আমার পূর্ণ আস্থা আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ ঐক্যবদ্ধ আছে এবং অবশ্যই একটি সমাধান বের হবে। আমি এ ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী। কোনো নেতিবাচক কিছু দেখছি না, পরিস্থিতি ইতিবাচকই আছে।’

আরও পড়ুন:  জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

এদিকে, ৪ আগস্ট ভারত নিশ্চিত করেছে যে, তারা বঙ্গোপসাগরীয় বহু-ক্ষেত্রীয় প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ (বিমস্টেক)-এর সভাপতি হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তার ভারত সফরের জন্য একটি পৃথক দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণপত্র রয়েছে।

ভারত আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে, যেখানে বৈশ্বিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর আলোকপাত করা হবে।

বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে ভারত সফরের জন্যও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ৭ আগস্ট নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্বজুড়ে আলো ছড়াবে: প্রধানমন্ত্রী

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারত বর্তমান বিমসটেক সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে যে প্রচলিত রীতি অনুসরণ করা হয়, তার ভিত্তিতেই বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও একইভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’

বিমসটেকের সদস্য দেশগুলো হলো-বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ গত বছরের এপ্রিলে দুই বছরের জন্য সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে বলে জানিয়েছেন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এর আগে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর ২৯ জুলাই সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা এখন বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে অবিলম্বে আপনাদের জানাব।’

আরও পড়ুন:  জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে দেওয়া সাম্প্রতিক ভাষণকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওই বক্তব্যের পর বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়। এর মধ্যেই ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি সামনে এলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 3 =