সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের একটি ফেসবুক রিল ভিডিও নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা চলছে। ভিডিওটি ঘিরে একদিকে ট্রল ও সাইবার বুলিং চলছে, অন্যদিকে অনেকেই শিক্ষিকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। তিনি সংবাদমাধ্যম কালবেলাকে জানিয়েছেন, স্কুল চলাকালীন নয়; বরং ছুটির পর ভিডিওটি রেকর্ড করেন তিনি। ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘নেতিবাচক ক্যাপশনে’ তার ভিডিও ভাইরাল করেন আসিফ ইকবাল হিরণ নামের এক প্রবাসী তরুণ। ওই তরুণের বিরুদ্ধে তিনি সাইবার বুলিং এবং সামাজিকভাবে হেনস্তারও অভিযোগ তুলেছেন।

বিউটি রানী পাল বলেন, ‘আমি আসলে রিল (গানসহ ছোট ভিডিও) বানাতে জানি না। আমার এক সহকর্মীকেই বলছিলাম যে কিভাবে রিল বানায়। স্কুল ছুটির পরে স্কুলের আঙিনাতেই আমি হেঁটে গেছি আর তিনি ভিডিওটা করেছেন।’

আরও পড়ুন:  আগামী ১৫ জুলাই সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ

ভিডিওটি নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বিউটি রানী বলেন, ‘আমরা মুখ দিয়ে বলব কারিকুলাম উন্নত, আর আমাদের মন-মানসিকতা থাকবে সংকীর্ণ, তাহলে আমরা কিভাবে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেব? আমাদের মন-মানসিকতা যদি এখন ডিজিটালাইজড না করি, স্মার্ট না হই, উন্নত না করি, তাহলে আমরা উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না।

আমাদের সব দিক দিয়ে সমানতালে চলতে হবে।’শিক্ষিকা বলেন, ‘তিনি আমার ভিডিওটা ডাউনলোড করে নিয়ে উনার পত্রিকায় নিউজ করেছেন এবং উনার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজেও আমার সম্পর্কে আজেবাজে লিখেছেন।’

তার দাবি, আসিফ ইকবাল হিরণের পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করার কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাজ করেছেন। হিরণ তাকে ফোন করে ব্যক্তিগত প্রশ্ন (বাড়ি কোথায়, তিনি স্থানীয় কি না) করে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। শিক্ষিকা তাকে পোস্টটি ডিলিট করার অনুরোধ জানালেও তিনি তা করতে অস্বীকার করেন।

আরও পড়ুন:  মাথা ন্যাড়া করে দেশ ছেড়েছেন ‘ছাগলকাণ্ডে’র মতিউর
বিউটি রানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত, এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।’

তিনি শিক্ষক সুরক্ষা আইনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষকদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিলে সমাজ সবচেয়ে বেশি নৈতিক হবে।’

অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি আইনি জটিলতায় না গিয়ে সারা দেশের মানুষের দেওয়া নৈতিক সমর্থনকেই তার শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি বলে মনে করছেন।

শিক্ষিকার অভিযোগের বিষয়ে আসিফ ইকবাল বলেন, ‘আমি ম্যাডামকে আদাব দিয়ে ভিডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়েছি। আর কিছু বলিনি।’

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন পেজটি কোনো অনলাইন গণমাধ্যম কি না, নিবন্ধন আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, নিবন্ধন নাই।’

আরও পড়ুন:  প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলন স্থগিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × four =