প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার ৭

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম দিনে মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।

বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

আরও পড়ুন:  জয়ের লক্ষ্যে ডাচদের মুখোমুখি আজ বাংলাদেশ

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিদেশে পরিচালিত আটটি কেন্দ্রের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আজ রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পরীক্ষা শুরুর আগে ও চলাকালে কেন্দ্রগুলোর বাইরে অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে প্রত্যাবর্তন, রাজধানীর তীব্র যানজট এবং প্রচণ্ড গরম নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যায়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর অল্প সময় আগে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস এবং নয়টি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অন্তত এক বছর আগে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন:  আমেরিকায় বাতিল জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার, কার্যকর কবে থেকে?

এক অভিভাবক সুবর্ণা বিশ্বাস বলেন, ‘পরীক্ষার মাত্র এক-দুই মাস আগে সিলেবাস ও প্রশ্নপদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের জন্য চাপের কারণ হয়েছে। এতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’

শাহজাহানপুরের মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষমাণ আরেক অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষার আগে সিলেবাস নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলেছে।’

অভিভাবক আরাব ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে নয়, উৎসাহ ও ইতিবাচক মনোভাব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। হঠাৎ সিলেবাস পরিবর্তনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।’

অন্য অভিভাবক কামরুজ্জামান মনে করেন, নতুন সিলেবাস ২০২৬ নয়, ২০২৭ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর করা হলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেত।

এদিকে, ভ্যাপসা গরমে কেন্দ্রের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে দুর্ভোগে পড়েন অভিভাবকরা। তাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে ফোকাস, উদ্ভাস, রেটিনা, মেডিকোসহ কয়েকটি কোচিং প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকেরা বিনামূল্যে হাতপাখা বিতরণ করে।

পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রগুলোর বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্র ত্যাগ নিশ্চিত করতে তারা যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন:  জবি শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ, আহত শতাধিক

পরীক্ষা শেষে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই জানান, বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র মানসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। অনেকের মতে, সৃজনশীল অংশ তুলনামূলক সহজ হলেও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) অংশের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা ভালো হয়েছে বলেই জানিয়েছেন তারা।

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তল্লাশি হলেও কোথাও অতিরিক্ত হয়রানি বা বাড়াবাড়ির ঘটনা ঘটেনি। ফলে প্রথম দিনের পরীক্ষা নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশেই সম্পন্ন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *