দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে এখন ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্যপদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ফলে শূন্য হওয়া সহকারী শিক্ষক পদেও দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা (সিনিয়রিটি) নির্ধারণে ৫০ শতাংশ অভিজ্ঞতা গণনার দাবিতে ৩৮৩ শিক্ষক ২০১৭ সালে মামলা করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন মামলাটির কার্যকর নিষ্পত্তি হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করা হয়। পরে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হলে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত সপ্তাহে আদালতের রায়ে সরকারের অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হয়েছে এবং এখন শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে। পাশাপাশি এসব পদে পদোন্নতির কারণে যে সহকারী শিক্ষক পদগুলো শূন্য হবে, সেগুলোতেও নতুন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। এখন শিক্ষকসংকট নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত আরও ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষককে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। আগে ৯ মাসের প্রশিক্ষণ থাকলেও বর্তমানে প্রশিক্ষণকাঠামোয় পরিবর্তন আসায় প্রাথমিকভাবে দুই মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের বিদ্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু প্রাথমিক নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতেও শিক্ষকসংকট রয়েছে। সরকারি কলেজে প্রায় ৪ হাজার এবং সরকারি বিদ্যালয়েও প্রায় ৪ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আদালতের রায় পাওয়ার পরপরই তিনি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। ইতিমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সংশ্লিষ্ট শূন্য পদের চাহিদাপত্র দ্রুত প্রস্তুত করে পিএসসিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পিএসসির চেয়ারম্যান তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র পাওয়া গেলে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সরকারি বিদ্যালয় এবং সরকারি কলেজের শিক্ষক নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রাথমিক স্তর থেকেই দক্ষ, নৈতিক ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা। এ জন্য আনন্দময় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং কার্যকর পাঠদানকে সমন্বয় করে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণেও এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতে অনেক শিক্ষার্থী যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষায় অংশ নিত। এবার সুষ্ঠু পরীক্ষা আয়োজন, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং অভিভাবকদের সচেতনতার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। ফলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে থাকতে পারে।
এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, অ্যাটর্নি জেনারেলে ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।







