খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়াতেও এগিয়ে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

২২ লাখ ছেলে মেয়ে গত দেড় মাসে গোল্ডকাপে ১ লাখ ২৩ হাজার ইভেন্ট খেলেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আয়োজকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনারা গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যাতে আমাদের এ কাজগুলো তারা গিনেজ বুকে দিতে পারে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ছোট বন্ধুরা, তোমাদের শুধু খেললে হবে না। আমি জানি তোমাদের অনেকে ভালো গান গাইতে পারো, কুরআন তেলাওয়াত করতে পারো। তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কাজেই তোমাদের সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে। তোমরা যদি পারদর্শী হয়ে উঠতে পারো তবেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ, একটি স্ট্রং বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তোমরা যখন বড় হবে তোমাদেরকেই বাংলাদেশ ভালোভাবে চালাতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, দেখি তোমাদের কার কার মধ্যে এমন আত্মবিশ্বাস আছে, যারা খুব ভালোভাবে দেশ চালাতে পারবে। বিশ্বকাপ চলছে। রোনালদো ভালো খেলছে, মেসি খেলছে, এমবাপ্পে খেলছে। তোমাদের এমন ভালো খেলোয়ার হতে হবে। অলিম্পিকে যেন আমাদের রেজাল্ট ভালো হয়, এ জন্য এরই মধ্যে আমরা পরিকল্পনা করে ফেলেছি।

আরও পড়ুন:  সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল একসঙ্গে ঘোষণা হবে

তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের অনেকদূর এগিয়ে যেতে হবে। যেমন ক্রিকেট। ক্রিকেটের মাধ্যমে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। তাই শুধু ক্রিকেট দিয়ে নয়, ফুটবল দিয়ে আমাদের সবাই চিনবে ইনশাল্লাহ, হকি দিয়ে, সুইমিং দিয়ে, টেনিস দিয়েও সবাই আমাদের চিনবে। তোমরা সারাবিশ্বে বাংলাদেশের এ্যাম্বাসেডর হবে। বাংলাদেশকে তোমাদের এগিয়ে নিতে হবে, বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। তোমরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো দেশ গড়তে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে লেখাপড়াও করতে হবে, তবে খেলা ছাড়লে হবে না। যে যেই খেলা পছন্দ করবে সে সেইটা খেলবে। খেলাধুলার চর্চা ধরে রাখতে হবে। উদ্ভাবনের চেষ্টা করতে হবে। আমি শুধু বিজয়ী না এই খেলায় সহযোগিতায় যারা ছিলেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই, একইসঙ্গে স্কুলের শিক্ষক, অবিভাবক সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তোমাদের খেলা ছাড়লে চলবে না। তোমাদের আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সব ব্যবস্থা আমরা করবো। তোমাদের কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তোমাদের সব বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে। কিছুদিন পর ঢাকার চীনমৈত্রীতে একটি উদ্ভাবনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখানে তোমাদের মতো বয়সী শিশুরা অংশ নেবে।

আরও পড়ুন:  গণভোট অধ্যাদেশ জারি করে গেজেট

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশকে একটি ফেমাস দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটা তোমাদের করতে হবে। কারণ এটা তোমাদের ভবিষ্যৎ, এটা তোমাদের বাংলাদেশ। করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটন, বরিশাল-৬ আসনের এমপি আবুল হোসেন খান প্রমুখ।

বক্তব্য শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল, রানাস আপ দল, সেরা খেলোয়ার, সর্বোচ্চ গোলদাতাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ ও পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পুরস্কৃত করা হয় রেফারিদেরও।

আরও পড়ুন:  শান্তিরক্ষীদের অর্জিত গৌরব রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্তব্য : প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় এ ক্রীড়া আয়োজন গত ৬ এপ্রিল শুরু হয়। এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে। গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে চারটি দল জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

প্রাথমিক স্তরে ক্রীড়া চর্চা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে ভবিষ্যতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *