২০০০ কর্মী ছাঁটাই করবে বিবিসি, বছরে ব্যয় কমাবে প্রায় ৬৮ কোটি ডলার

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পাবলিক ব্রডকাস্টার ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি) আগামী সপ্তাহে তাদের সংবাদ বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ থেকে শত শত কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। মার্কিন ব্যবসায়িক দৈনিক ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ (এফটি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ তহবিল বা লাইসেন্স ফি সংক্রান্ত আলোচনার আগেই এই বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে ২০ হাজারের বেশি কর্মী নিয়ে পরিচালিত বিবিসি তাদের বার্ষিক বাজেটের ১০ শতাংশ বা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড (৬৭৭ মিলিয়ন ডলার) সাশ্রয় করার পরিকল্পনা করছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ২ হাজার কর্মী ছাঁটাই হতে পারে।

বিবিসির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাজ করেন সংবাদ বিভাগে। আগামী সপ্তাহে এই বিভাগটিই সবার আগে তাদের ব্যয় সংকোচন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রকাশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদ বিভাগটি টেলিভিশন, রেডিও, ওয়েবসাইট এবং অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সংবাদ সরবরাহ করে থাকে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এই ছাঁটাইয়ের ফলে বেশ কিছু নির্দিষ্ট রেডিও অনুষ্ঠান বন্ধ বা সংকুচিত হতে পারে, যা বিবিসি’র দর্শক ও শ্রোতাদের কাছে সরাসরি দৃশ্যমান হবে।

আরও পড়ুন:  ফ্রান্সের নতুন কোচ জিদান

প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে এফটি জানায়, কনটেন্ট বা বিনোদনধর্মী অন্যান্য বিভাগগুলো কর্মী ছাঁটাই না করেও ভিন্ন উপায়ে ব্যয় কমাতে পারলেও, সংবাদ বিভাগের ক্ষেত্রে কর্মী ছাঁটাই ছাড়া বিকল্প পথ সীমিত।

এর আগে গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে বিবিসির নতুন মহাপরিচালক ম্যাট ব্রিটিন সতর্ক করে বলেছিলেন, একটি আর্থিকভাবে স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটিকে কিছু ‘কঠিন ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে।

ইতিমধ্যেই বিবিসি ভ্রমণ খরচ কমানো, নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিত রাখা, কনসালটেন্সি বা পরামর্শক খাতের ব্যয় কমানো এবং বিভিন্ন সম্মেলন, পুরস্কার বিতরণী ও অনুষ্ঠান আয়োজনের বাজেট কমানোর মতো বেশ কিছু ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিবিসির অন্তর্বর্তীকালীন মহাপরিচালক রড্রি টালফান ডেভিস কর্মীদের পাঠানো এক ই-মেইলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে লিখেছেন, ‘আমি জানি এটি একটি চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, তবে আমরা এই চ্যালেঞ্জটির বিষয়ে শুরু থেকেই স্বচ্ছ থাকতে চেয়েছি।’

আরও পড়ুন:  স্পেনে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণহানি বেড়ে ৩৯

কেবল গণমাধ্যম খাতই নয়, প্রযুক্তি ও খুচরা ব্যবসাসহ বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় খাতের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও বর্তমানে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

গত মে মাসে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ বা ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। মেটার সিঙ্গাপুর হাব থেকে এই ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ফার্নিচার জায়ান্ট আইকিয়ার মূল হোল্ডিং কোম্পানি ‘ইন্টার আইকিয়া গ্রুপ’ তাদের ৮৫০ জন কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমানে ২৭ হাজার ৭০০ কর্মী নিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের সাংগঠনিক কাঠামো অতিরিক্ত ‘জটিল’ হয়ে পড়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কফি জায়ান্ স্টারবাকসও খরচ কমাতে মে মাসে তাদের করপোরেট অফিস থেকে ৩০০ কর্মী ছাঁটাই এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অফিস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে গত বছরও কোম্পানিটি প্রায় ২ হাজার কর্মী ছাঁটাই এবং উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে শত শত আউটলেট বন্ধ করেছিল।

আরও পড়ুন:  পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ৭ সেপ্টেম্বর, দেখা যাবে বাংলাদেশ থেকেও

এ ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে তাদের ব্যবসা পুনর্গঠন করছে। মাত্র তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার প্রায় ৬০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 4 =