বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হলেন মাস্ক, সম্পদ এখন তাইওয়ানের অর্থনীতির চেয়েও বড়

স্পেসএক্সের রেকর্ড গড়া আইপিওর (প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি) হাত ধরে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হয়েছেন ইলন মাস্ক। এর মাধ্যমে তিনি এমন এক সম্পদসীমায় পৌঁছেছেন, যেখানে এর আগে কোনো ব্যক্তি কখনো পৌঁছাতে পারেননি।

কোম্পানির নথি ও ফোর্বসের হিসাবের ভিত্তিতে রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্পেসএক্সের শেয়ার লেনদেন শুরু হলে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ১০ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে। রকেট, স্যাটেলাইট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানই তার সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠবে।

এই মাইলফলকের মাধ্যমে মাস্ক কার্যত সম্পদের দিক থেকে একক এক অবস্থানে পৌঁছে গেছেন বলে শুক্রবার (১২ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।

আরও পড়ুন:  বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর ৯ জনই যুক্তরাষ্ট্রের, আর ২০-এ এশীয় ১ জন

ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স সূচক অনুযায়ী, স্পেসএক্সের আইপিওর আগেই মাস্ক বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তখন তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৭১ বিলিয়ন ডলার।

তার পরের অবস্থানে থাকা অ্যালফাবেটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়েও তিন গুণ বেশি সম্পদের মালিক ছিলেন মাস্ক।

মাস্কের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ এখন কয়েকটি দেশের বার্ষিক অর্থনীতির আকারকে ছাড়িয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী, তাইওয়ানের অর্থনীতির আকার প্রায় ৯৭৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধানের সম্পদ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তাইওয়ানের পুরো অর্থনীতির চেয়েও বড়।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে মাস্কের সম্পদ ভারতের অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান।

আরও পড়ুন:  বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুন মর্যাদা দিলেন ড. ইউনূস

যে আইপিও মাস্ককে ট্রিলিয়নেয়ার বানাল

মাস্কের সম্পদে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন এসেছে স্পেসএক্সের ৭৫ বিলিয়ন ডলারের আইপিও থেকে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও।

শেয়ার বিক্রির আগে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৮০ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করেছিল ফোর্বস। বর্তমানে স্পেসএক্সে তার মালিকানার অংশের মূল্য প্রায় ৮৬৬ বিলিয়ন ডলার, যা তার সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস।

টেসলা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে তার মালিকানার অংশ যুক্ত করলে মাস্কের মোট সম্পদ ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফোর্বস ওয়েলথের ডেপুটি এডিটর ম্যাট ডুরোট রয়টার্সকে বলেন, ‘দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তির সম্পদ প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আশপাশে। অর্থাৎ মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।

আরও পড়ুন:  হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ জুন

‘মাস্ক ছাড়া কেবল একজন ব্যক্তি, ল্যারি এলিসন (ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা) ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − eight =