বাংলা নাট্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বরেণ্য এই নাট্যজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান এবং অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।
অভিনেতা রওনক হাসান গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মঞ্চের প্রেরণাদায়ী সারথি আতাউর রহমান। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করি।’
আতাউর রহমান বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। সোমবার বিকেলে তার গুরুতর অসুস্থতার খবর আসে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘আব্বার অবস্থা আসলে খুব একটা ভালো না। তার শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছে—চিকিৎসক তেমনটাই জানিয়েছেন। সবার কাছে আমার আব্বার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।’
শর্মিষ্ঠা রহমান আরও জানান, গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও, সেখানে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় পরে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরপরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ওইদিনই কিছুটা শারীরিক উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু রোববার (১০ মে) আবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এর দুই দিন পরই তার চিরবিদায়ের খবর আসে।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করা আতাউর রহমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী ছিলেন। তিনি একাধারে নাট্যজন, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক এবং লেখক হিসেবে সুপরিচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে তার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পদকের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ করেন। তার মৃত্যু বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি।







