শুভেন্দু অধিকারী হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। বিজেপির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের প্রস্তাব জানাবেন শুভেন্দু। 

নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে আজ শুক্রবার কলকাতায় বৈঠকে বসেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। এতে উপস্থিত রয়েছেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকটি এখনও চলছে। বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছিল গত কয়েক দিন ধরে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ হওয়ার কথা শনিবার। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন এবং এনডিএ-শাসিত সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা আছে।

আরও পড়ুন:  বাংলাদেশকে ১.১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে রাজি হলো আইএমএফ

বৈঠকের জন্য অমিত শাহ কলকাতায় পৌঁছলে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। হাতে ফুল তুলে দেওয়ার পর অমিত শাহ শুভেন্দু অধিকারীকে কাছে টেনে নিয়ে পিঠ চাপড়ে দেন।

এদিকে নতুন সরকারের জন্য বিধানসভা নতুন করে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। নতুন করে রঙ করার কাজ চলছে। চেয়ার টেবিলে পালিশের কাজ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যে ঘরে বসবেন সেই ঘর থেকে শুরু করে স্পিকার ও মন্ত্রীরা যেসব ঘরে বসবেন তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করে দিয়েছে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ।

শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভা নির্বাচনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জিতেছেন। নিজের নন্দীগ্রামের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি ভবানীপুরে হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

আরও পড়ুন:  ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, মে মাসে কালবৈশাখী-দাবদাহের শঙ্কা

একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শুভেন্দু। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই তিনি রাজ্যে দলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর লাগাতার লড়াই, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনি জয়- এসব বিষয়গুলো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর দাবিকে আরও জোরালো করেছে।

দলীয় সূত্রের খবর, ভবানীপুর থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে শুভেন্দুর জয়কে বাংলার রাজনীতির একটি প্রতীকী ও কৌশলগত মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে বিজেপির অভ্যন্তরে আরও কিছু নাম নিয়ে আলোচনা ছিল। তাদের মধ্যে আছেন- রাজ্য শাখার সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও রাজ্যসভার সাবেক এমপি স্বপন দাশগুপ্ত।

আরও পড়ুন:  সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে: আসিফ নজরুল

দলের একটি অংশ স্বপন দাশগুপ্তকে একজন বুদ্ধিজীবী মুখ হিসেবে দেখে থাকেন। মনে করা হয়, তিনি শাসন ও রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম। অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্যকে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে সফলভাবে সংগঠন পরিচালনার কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *