৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, ঢাকাসহ ১৩ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সাগরে বায়ুচাপের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সাগর এলাকায় দমকা হাওয়া ও বড় ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে, যা ছোট নৌযানগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে জেলেদের সর্বদা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।

আরও পড়ুন:  বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা, দেশজুড়ে বৃষ্টির আভাস

সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবল শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৩টি জেলায় আজ দুপুর ১টার মধ্যে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই তিন অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সতর্কবার্তার আওতায় থাকা অন্য জেলাগুলো হলো—ঢাকা, টাঙ্গাইল, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ১০টি অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের লঞ্চ ও স্টিমারকে সাবধানতার সাথে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ বৈশাখ মাসের এই ঝড়গুলো খুব দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

আরও পড়ুন:  মাইনাস টু’র আশা জীবনেও পূরণ হবে না : আমীর খসরু

আবহাওয়াবিদদের মতে, গ্রীষ্মকালীন বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণে এই ধরনের আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে গাছপালা ও কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকেও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নতুন কোনো বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *