মার্কিন ইতিহাসে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় চারজন প্রেসিডেন্ট আততায়ীর হামলায় নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও অনেক প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সময়ে মারাÍক সব প্রাণঘাতী হামলার মুখোমুখি হয়েছেন।
আব্রাহাম লিঙ্কন: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম গুপ্তহত্যার শিকার হওয়া প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহম লিঙ্কন। ১৮৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিন পর ওয়াশিংটনের ফোর্ডস থিয়েটারে তাকে মাথার পেছন থেকে গুলি করা হয়। পরদিন সকাল ৭টা ২২ মিনিটে মারা যান তিনি। ঘাতক বুথ ছিলেন একজন ব্যর্থ অভিনেতা ও কনফেডারেট সমর্থক।
হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পর ভার্জিনিয়ার একটি খামারে তাকে ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী। আÍসমর্পণ করতে রাজি না হওয়ায় সেনাদের গুলিতেই বুথ নিহত হন।
জেমস গারফিল্ড: ১৮৮১ সালের ২ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির একটি ট্রেন স্টেশনে আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধ হন প্রেসিডেন্ট জেমস গারফিল্ড। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় তিনি নিহত না হলেও একমাস পর আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় নিউজার্সিতে মারা যান। সে সময় পেনিসিলিন আবিষ্কৃত হলে হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন।
কিন্তু তখন অ্যান্টিবায়োটিকের অভাব এবং আধুনিক স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় চিকিৎসকরা বারবার প্রেসিডেন্টের ক্ষতস্থানে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে গুলি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। এতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। দীর্ঘ দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮৮১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। ঘাতক চার্লস গুইটো ছিলেন একজন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তি। সরকারি চাকরি না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রেসিডেন্টকে অনুসরণ করছিলেন।
পরে ২ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির একটি স্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময় তিনি গারফিল্ডকে গুলি করেন। বিচারের পর ১৮৮২ সালের ৩০ জুন তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।
উইলিয়াম ম্যাককিনলে: ১৯০১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের বাফেলোতে আততায়ীর হাতে নিহত হন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাককিনলে।
লিওন সিজলগোস নামের এক নৈরাজ্যবাদী তাকে হত্যা করেন। নিজেকে ‘নৈরাজ্যবাদী’ দাবি করা চোলগোসকে উপস্থিত জনতা আক্রমণ করলেও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে ইলেকট্রিক চেয়ারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
জন এফ কেনেডি: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর। টেক্সাসের ডালাসের রাজপথ দিয়ে মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে যাওয়ার সময় জন এফ কেনেডিকে গুলি করেন লি হার্ভে অসওয়াল্ড নামের এক ব্যক্তি। ঘাড় ও মাথায় গুলি লাগার পর কেনেডি তার স্ত্রী জ্যাকিলিন কেনেডির পাশেই ঢলে পড়েন।
কেনেডি হত্যাকাণ্ড ছিল আধুনিক প্রচারমাধ্যম যুগের প্রথম বড় কোনো ট্র্যাজেডি। তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরটি কয়েক সপ্তাহ ধরে টিভি এবং রেডিওতে প্রধান সংবাদ হিসাবে প্রচারিত হয়েছিল।
ব্যর্থ হওয়া উলেখযোগ্য কিছু হত্যাচেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রায় শুরু থেকেই প্রেসিডেন্টদের হত্যার ষড়যন্ত্র হয়ে আসছে। ১৮৩৫ সালে রিচার্ড লরেন্স নামের এক ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনকে গুলি করতে চাইলেও পিস্তল জ্যাম হয়ে যাওয়ায় রক্ষা পান অ্যান্ড্রু।
১৯১২ সালে থিওডোর রুজভেল্ট যখন পুনরায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াই করছিলেন তখন জন শ্র্যাঙ্ক নামের এক ব্যক্তি তার বুকে গুলি করেন। রুজভেল্টের বুকপকেটে থাকা চশমার কেস এবং দীর্ঘ ভাষণের পাণ্ডুলিপির জন্য তিনি তখন বেঁচে যান।
১৯৩৩ সালে ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের ওপর হামলা করেন জিউসেপ্পে জাঙ্গারা। সেসময় রুজভেল্ট বেঁচে গেলেও শিকাগোর মেয়র আন্তন চারমাক নিহত হন। ১৯৫০ সালে হ্যারি ট্রুম্যানের বাসভবনে হানা দিয়েছিলেন পুয়ের্তো রিকোর দুই অধিকারকর্মী। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে ট্রম্যান অক্ষত থাকেন।
১৯৭৫ সালে লিনেট স্কুইকি ফ্রোম নামের এক নারী প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করলেও বন্দুক বিকল থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
১৯৮১ সালে জন হিন্কলি জুনিয়রের গুলিতে রোনাল্ড রিগান মারাত্মক আহত হলেও বেঁচে যান তিনি। আধুনিক যুগেও জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।







