ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে কুমিল্লা রণক্ষেত্র

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গুপ্ত শিবির বলাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকাল চার টায় নাফিস আব্দুল্লাহ নামে একজন শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় দেয় কয়েকজন শিক্ষার্থী। এই থাপ্পড়ের বিচারের জন্যই সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের কক্ষে যায় ছাত্রশিবির। অধ্যক্ষ বিচারের জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করে। কিন্তু তাৎক্ষণিক বিচার দাবি করে ছাত্রশিবির।

এ সময় হঠাৎ করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় হামলায় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন:  পাহাড়ধসের আশঙ্কায় বান্দরবানের ৬০ পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নাকচ করে বলছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

তবে ছাত্রশিবির বলছে গুপ্ত লেখাকে কেন্দ্র করেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের উপর হামলা করেছে।কুমিল্লা পলিটেকনিক্যাল ছাত্রদলের সভাপতি ইমন আহমেদ বলেন, বিকেলে একজন শিক্ষার্থীর সাথে হলের দুই শিক্ষার্থীর কথা কাটাকাটি হয়। তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আহমেদ বলেন, সারা দেশে ছাত্রদলের গুপ্ত লেখার কর্মসূচি ছিল। এই কর্মসূচি চলার সময় ছাত্রশিবিরের কর্মী নাফিস আব্দুল্লাহকে ছাত্রদলের ছেলেরা মারধর করে।

অধ্যক্ষের কাছে মারধরের ভিডিও চাইতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের উপর হামলা করে। আহত কয়েকজন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় পলিটেকনিক্যাল ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং সেক্রেটারি দুজনই আহত হয়েছেন।কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মাজারুল ইসলাম বলেন, এখানে কোনো ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের কোনো স্লোগান ছিল না। হঠাৎ করেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকেলে একজনকে থাপ্পড় মারা কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আমি একটি তদন্ত কমিটি করেছিলাম। কিন্তু এর আগেই সংঘর্ষ ঘটে।

আরও পড়ুন:  মাস্টারপ্লানের বাস্তবায়নই পারে রাবিপ্রবিকে সবচেয়ে সুন্দর ও নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসেব গড়তে- রাবিপ্রবি উপাচার্য

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার (ওসি তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পরিবেশ শান্ত আছে। দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটনা ঘটেছে। আহত কতজন খোঁজ খবর নিচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *