শেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে হেরে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করলেও পরের ম্যাচেই দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ফলে শেষ ম্যাচটি রূপ নেয় সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে। গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তার ইনিংসে ভর করে আড়াইশর বেশি রান তোলে স্বাগতিকরা। পরে বোলারদের দাপটে, বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানের ফাইফারে, প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে এনে ৫৫ রানের জয়ে পায় টাইগাররা। রানের হিসেবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটি সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। প্রতিপক্ষকে ৫৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে ২০১৩ সালে মিরপুরে ৪৩ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন শান্ত। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৪ ওভার ৫ বলে ২১০ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে ৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার হন মুস্তাফিজ।

২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বাউন্সারে টপ এজ তুলে দিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দেন হেনরি নিকোলস। ৪ রান করা এই ওপেনারের বিদায়ে ৮ রানেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।

আরও পড়ুন:  ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ: পাকিস্তান ছাড়ল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা

অপর ওপেনার উইল ইয়াং কিছুটা থিতু হলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ২৫ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেন ইয়াং। ৫৪ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দলের ভরসা ছিলেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম, কিন্তু মিরাজের বলে সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ তুলে শরিফুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন। ১৩ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

৬১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া নিউজিল্যান্ডকে সামলানোর চেষ্টা করেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। কেলি দারুণ ব্যাটিং করে ৬৮ বলে ফিফটি পূরণ করেন। তবে ৫৯ রান করে মুস্তাফিজের শিকার হয়ে বিদায় নিলে ভেঙে যায় ৪৭ রানের জুটি।

আরও পড়ুন:  বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে ৩ দেশের শ্রমবাজার

এরপর আব্বাসকে বোল্ড করেন শরিফুল ইসলাম। ৩৬ বলে ২৫ রান করা এই ব্যাটারের বিদায়ে ১২৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে সফরকারীরা। পরে ডিন ফক্সকর্ফট কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ৭৫ রান করলেও তা কেবল ব্যবধান কমিয়েছে।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারান সাইফ হাসান। উইলিয়াম ও’উরকের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে শূন্য রানেই ফেরেন তিনি।

তানজিদ হাসান তামিমও সুবিধা করতে পারেননি, ৫ বলে ১ রান করে আউট হন। ৯ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন শান্ত ও সৌম্য সরকার, কিন্তু ২৬ বলে ১৮ রান করে আউট হন সৌম্য।

চতুর্থ উইকেটে শান্ত ও লিটন কুমার দাস মিলে গড়েন বড় জুটি। ধীরে শুরু করলেও পরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ১৬০ রানের জুটি গড়ে তোলেন তারা, যা দলের বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করে। লিটন ৭৬ রান করে আউট হন।

ফিফটির পর সেঞ্চুরি পূরণ করেন শান্ত, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতরান। ১১৯ বলে ৯টি চার ও ২টি ছয়ে ১০৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি।

আরও পড়ুন:  অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘বেঁধে দিলেন’ কাদের সিদ্দিকী

এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ২২ রান করেন। শরিফুল ইসলাম ১ এবং তানভীর ইসলাম শূন্য রানে আউট হন। তাওহীদ হৃদয় ৩৩ ও মুস্তাফিজুর রহমান ৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।

তৃতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (হৃদয় ৩৩*, মোস্তাফিজ ৩*; সাইফ ০, তানজিদ ১, সৌম্য ১৮, লিটন ৭৬, শান্ত ১০৫, মিরাজ ২২, শরিফুল ১, তানভীর ০)

নিউজিল্যান্ড ৪৪.৫ ওভারে ২১০/১০ (লিস্টার ২*; নিকোলস ৪, ইয়াং ১৯, ল্যাথাম ৫, কেলি ৫৯, আব্বাস ২৫, ক্লার্কসন ৬, স্মিথ ২, লেনক্স ২, ও’রুর্ক ১, ফক্সক্রফট ৭৫)

ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *