বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা শনিবার

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) প্রধান (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার) নিয়োগ পরীক্ষা অবশেষে আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মোট ১২ হাজার ৯৫১টি পদের নিয়োগে এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা এ দিন রাজধানীর ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষকদের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এ পরীক্ষা স্থগিতের আদেশ দিলেও একই দিন আপিল বিভাগ ওই আদেশ স্থগিত করেছেন বলে জানিয়েছেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) আইন ও সমন্বয় শাখার সহকারী পরিচালক লুৎফর রহমান।

‎এবারই প্রথম এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, ‘শিক্ষকদের রিট আবেদন আমলে নিয়ে সকালে হাইকোর্ট বিভাগ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রাখার আদেশ দিয়েছিল। পরে সরকার আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হলে আপিল বিভাগ ওই আদেশ স্থগিত ঘোষণা করেছেন। তাই আগের সূচি অনুযায়ী শনিবার রাজধানীর ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:  আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর

‎শনিবার অনুষ্ঠিতব্য এ পরীক্ষার প্রবেশপত্র ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে বলে জানান লুৎফর রহমান। ‎তিনি বলেন, ‘প্রার্থীরা নিজে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। পরে তা প্রিন্ট করে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। কোন ভেন্যুতে পরীক্ষা হবে, তা প্রবেশপত্রে উল্লেখ আছে।’

তিনি জানান, এই নিয়োগে এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা হবে ৮০ নম্বরের। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ৮ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। বাকি ১২ নম্বর থাকবে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর।

‎এর আগে বৃহস্পতিবার এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পরীক্ষা স্থগিতের আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির বুলবুল। এ দিন তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘আগামী শনিবার অনুষ্ঠিতব্য এই নিয়োগ পরীক্ষা আগামী দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এনটিআরসিএ কর্তৃক গত ২৫ মার্চ ইস্যু করা সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতাও দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছিলেন আদালত।’

আরও পড়ুন:  পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন মার্কিন বিজ্ঞানী

এর আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারের শূন্য পদে নিয়োগের পরীক্ষা দিতে গত ২৯ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নিয়োগের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পরে ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষকের আবেদন গ্রহণের পর এমপিও নীতিমালা ও জনবল সংশোধনসহ নিয়োগের যোগ্যতা সংশোধন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংশোধনী অনুযায়ী—আগে এসব পদে নিয়োগের শর্তে ১০ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হলেও নতুন বিধানে এখন থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের কমপক্ষে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এরপর আগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে ‎গত ২৫ মার্চ নিয়োগের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ। তাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহকারী সুপারের শূন্যপদের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬০৮টিতে। ২৮ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত আবারও আবেদন গ্রহণ করা হয়। ১২ হাজার ৯৫১টি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগে ৫৩ হাজার ৫৯টি আবেদন জমা পড়েছে বলে জানায় এনটিআরসিএ।

আরও পড়ুন:  যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষার ও শীতকালীন ঝড়ের শঙ্কা, ১০ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *