চট্টগ্রামে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে দুটি গাড়িতে করে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়রের বাসায় পৌঁছালে তার উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই সেখানে জড়ো হন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা বাড়ির মূল ফটক ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

অবরুদ্ধ অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। তারা জানতে চান, কেন তিনি স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করতে এসেছেন, পরীক্ষিত দোসরের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য কী, এবং আওয়ামী লীগের একজন নেতার বাসায় তার উপস্থিতির কারণ কী। একই সঙ্গে তারা স্লোগান দিতে থাকেন, আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান।

আরও পড়ুন:  সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সফরে রাষ্ট্রপতি পদকে ভূষিত হলেন সেনাপ্রধান

পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হাসনাত আবদুল্লাহ বাইরে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন তিনি।

জানা গেছে, এম মনজুর আলমের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় আওয়ামী লীগের মাধ্যমে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন এবং টানা চারবার চসিকের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তৎকালীন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হলে তিনি প্রায় দুই বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১০ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন মনজুর আলম। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় এক লাখ ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন:  নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার হলো শিশুটির মরদেহ

তবে ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনের দিনই কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন এবং রাজনীতি থেকে স্থায়ী অবসরের ঘোষণা দেন। যদিও পরবর্তীতে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা যায়। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর কখনো বিএনপির আবার কখনো এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন মনজুর আলম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *