সব আলোচনা থেকে বেরিয়ে গেছে ইরান, দেশজুড়ে মানবঢাল

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার হুংকার দেওয়ার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তেহরান। দেশটির নারী ও শিশুরা জ্বালানি কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার চারপাশে মানবঢাল তৈরি করে অবস্থান নিয়েছে। এদিকে, ট্রাম্প আবারও নিশ্চিত করেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম শেষ হওয়ামাত্র তিনি ইরানজুড়ে তাণ্ডব চালাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ইরানের স্থানীয় সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টায় শেষ হওয়ার কথা।

ইরানে এরই মধ্যে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন হয়ে গেছে দাবি করে ট্রাম্প লেখেন, ‘নতুন শাসন ব্যবস্থায় আলাদা, আরো বুদ্ধিমান এবং কম উগ্র মানসিকতার লোকেরা প্রাধান্য পাবেন। হয়ত কোনো বিপ্লবাত্মক অসাধারণ কিছু ঘটতে পারে, কে জানে?’

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আজকের রাতটি বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। ৪৭ বছরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মৃত্যুর অধ্যায় অবশেষে শেষ হতে পারে।

আরও পড়ুন:  ডোনাল্ড লু’র পদে আসছেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত পল কাপুর
ট্রাম্পের এই হুংকারের পর তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সমঝোতার উদ্যোগ থেকে নিজেদের পুরোপুরি সরিয়ে নিয়েছে তেহরান। ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে থমকে গেছে আলোচনা। তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে অচলাবস্থা কাটানোর সম্ভাবনা হারিয়ে যেতে বসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে ইরান ওয়াশিংটনকে অবাধ্যতা ও অসন্তোষের বার্তা দিতে চায়।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নিশ্চিত করেছেন, বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক হামলা চালাবে।

আরও পড়ুন:  ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান
ফক্স নিউজের ব্রেট বায়ারকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অবস্থান জানান। ট্রাম্প বলেন, ‘রাত ৮টা (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) আসছেই।’

বায়ার বলেন, ‘আমি মাত্রই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা শেষ করেছি। তাকে বলেছিলাম, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কতটুকু? তিনি বললেন, এ বিষয়ে কোনো সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে চান না। রাত ৮টা আসছেই।’

বায়ার আরো বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) বলেছেন, এমন একটি হামলা হবে যা তারা (ইরান) আগে কখনো দেখেনি। এখন পর্যন্ত তিনি এই অবস্থানেই আছেন। তবে তিনি বলেছেন, আজ যদি আলোচনা এগিয়ে যায় এবং কোনো বাস্তব ফল আসে, তাহলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। আমরা আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।’

এর আগে ২১ মার্চ ট্রাম্প প্রথমবার ঘোষণা করেন, ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে ‘তাণ্ডব শুরু করবেন।’ তবে দুই দিনের মধ্যেই আবার জানান, দুই দেশের মধ্যে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে। তাই হামলার পরিকল্পনা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  তিন বছরের ঋণের পরিকল্পনা জানতে চাইবে আইএমএফ

এরপর ২৭ মার্চ ‘ইরান সরকারের অনুরোধে’ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা আরো ১০ দিনের জন্য স্থগিত করার কথা জানান ট্রাম্প। সবশেষ শুক্রবার ট্রাম্প আবার সতর্ক করেন বলেন, ইরানের হাতে মাত্র ‘৪৮ ঘণ্টা’ সময় আছে এবং এর পরে তিনি ‘সবকিছু ধ্বংস করে দেবেন।’

রবিবার তিনি এক পোস্টে আরো কড়া হুমকি দিয়ে বলেন, ‘মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের দিন, সেতু ধ্বংসের দিন’। পরে সময় নির্দিষ্ট করে বলেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম)!’ সে অনুযায়ী ইরানের সময় বুধবার ভোরে শেষ হচ্ছে চূড়ান্ত সময়সীমা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *