ঈদের দিন ঘুরে আসুন ঢাকার মনোরম ৪ জায়গা থেকে

ঈদের ছুটি কাটানোর হাজারো জল্পনা-কল্পনা নিঃসন্দেহে এ আনন্দের অন্যতম প্রধান অংশ। কীভাবে কী করলে ছুটিটি সবচেয়ে ভালোভাবে কাটানো যাবে এ নিয়ে ভাবনার শেষ নেই। আর ঈদের ছুটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভ্রমণবিলাসী মনের সুতো। দেখে নিন ঈদের দিন রাজধানীর কোন কোন জায়গাতে ঘুরতে পারবেন-

১. আহসান মঞ্জিল: বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ঢাকার নবাবদের আবাসিক ভবনগুলোর মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত স্থান আহসান মঞ্জিল। এই ঈদে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নবাবদের আভিজাত্যের ছোঁয়া উপভোগ করার মতো মজা আর হবে না। এই আহসান মঞ্জিলে প্রথম  ঢাকা শহরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলেছিল। আহসান মঞ্জিল দুটি অংশে বিভক্ত। পূর্বদিকের অংশটি দরবার বা রঙমহল  এবং পশ্চিম  দিকের অংশটি  ছিল অন্দর মহল দুটি অংশে সংযোগ করা হয়েছে দোতলায়। দক্ষিণ পাশে রয়েছে খোলা চত্বর । তারপর বুড়িগঙ্গা নদী। প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা ভ্রমণ ও বিনোদন প্রিয় শত শত মানুষের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এ চত্বর। দোতলা থেকে সিড়ি চলে গেছে নদীর ঘাটে। প্রায় পাঁচ একর জমিসহ ঐতিহাসিক এই ভবনটি ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার অধিগ্রহণ করে জাদুঘরে রুপান্তর করেন। জাদুঘরের মোট ২৩টি গ্যালারীতে ঢাকার নবাবদের জীবনযাত্রা ও পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  অভিনেত্রী সীমানা মারা গেছেন
২. লালবাগ কেল্লা: মুঘল আমলে নির্মিত একটি অনন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত লালবাগ কেল্লা। প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভিড়ে মুখর থাকে লাল ইটের দর্শনীয় কেল্লাটি। সেই সঙ্গে দেখে আসতে পারেন কেল্লার পাশেই অবস্থিত ঐতিহাসিক লালবাগ শাহী মসজিদও। এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৬৭৮ সালে, মুঘল সুবেদার মুহাম্মদ আজম শাহ কর্তৃক, যিনি ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র এবং পরবর্তীতে নিজেও সম্রাট পদপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি দিল্লি চলে যান এতে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তার উত্তরসুরি, মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করেন, কিন্তু শেষ করেননি। কারণ মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁ এর কন্যা পরিবীবী মারা যান। এ কারণে তিনি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।

৩. বলধা গার্ডেন: রাজধানীর ওয়ারীতে অবস্থিত বলধা গার্ডেনে রয়েছে প্রায় দেড় হাজার প্রজাতির গাছ। এখানে একটি সুন্দর পুকুর আছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই বাগানে নানা ধরনের গাছের পাশাপাশি রয়েছে পর্যটকদের জন্য গেস্ট হাউস। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বন বিভাগ নব-উদ্যোগে উদ্যানের উন্নয়ন শুরু করে। ফলে বাগানের হারানো গৌরব অনেকটা পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর দুটি নতুন গ্রিনহাউস নির্মাণসহ সর্বসাধারণের জন্য বাগানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও গড়ে ওঠে। বলধা গার্ডেন দুটি অংশে বিভক্ত। একটি অংশের নাম সাইকী এবং অন্যটি সিবলী। সাইকী অর্থ আত্মা ও সিবলী অর্থ প্রকৃতির দেবী। দুটি শব্দই গ্রিক পৌরাণিক শব্দ।
সাইকী অংশের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে নীল, লাল, সাদা, হলুদ, জাতের শাপলায় ভরা অনেকগুলো শাপলা হাউস, বিরল প্রজাতির দেশি বিদেশি ক্যাকটাস, অর্কিড, এনথুরিয়াম, ভূজ্জপত্র গাছ, বিচিত্র বকুল, আমাজান লিলি ও সুড়ঙ্গসহ একটি ছায়াতর ঘর।
 ৪. বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক: শান বাঁধানো নদীর ঘাটে নৌকা বাঁধা দেখতে যেতে হবে বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে। মৃদুমন্দ হাওয়া খেতে চাইলে এখানে নৌকায় করে ঘুরতে পারেন। জায়গাটি গাছগাছালিতে ঢাকা। গাছের সারির ফাঁকে পাকা রাস্তা। শহরের কোলাহল ছেড়ে রাজধানীর উপকণ্ঠ শ্যামপুরে প্রায় সাত একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে পার্কটি। বুড়িগঙ্গা পার্ক বা উদ্যান বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি সর্বজনীন স্থান। এই উদ্যানটি ২০১২ সালের অক্টোবরে পাবলিক উদ্যান হিসেবে স্থাপিত হয় যদিও পূর্বে মালবাহী জেটি ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *